রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বহিরাগতদের আগমন ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বহিরাগতদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আজকালের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। চার সিটির বাসিন্দা ছাড়া সেখানে অবস্থানরত সব বহিরাগত ব্যক্তিকে মঙ্গলবার ১২ জুন রাত ১২টার আগেই ওই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ গতকাল সোমবার বলেন, আমরা একটি অবাধ ও সুষুম নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছি। নির্বাচনে এখনও বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। খুলনাতে গিয়েছিলাম। সেখানেও সবাই বলেছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তারপরও আমরা স্পর্শকাতর ভোট কেন্দ্রগুলোর জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। বহিরাগতদের সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে- ওই সময়ের পর বহিরাগত কোন প্রভাবশালীকে ওই চার সিটি এলাকায় পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা গতকাল জানান, এ বিষয়ে একটি বিশেষ পরিপত্র আজ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগীয় কমিশনার, উপ-মহাপুলিশ পরির্দশক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। ১২ জুন রাত ১২টার পর থেকে অর্থাত্ ১৩ জুন থেকে ৪ সিটি এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪ সিটিতে ১৩ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত মোট চারদিন র্যাবের ৬০টি দল ( প্রতি দলে ৮ থেকে ১০ জন), ২১ প্লাটুন বিজিবি এবং ৫ প্লাটুন কোস্টগার্ড নিয়োজিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের সমন্বয়ে ১৫৮টি ভ্রাম্যমাণ এবং স্ট্রাইকিং টিম নিয়োগ হতে যাচ্ছে। নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হচ্ছে প্রায় দেড়শজন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, গত ৩০ মে নির্বাচন কমিশনের সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, র্যাবের ওই ৬০টি দলকে জরুরি কোন প্রয়োজনে সহায়তা দেয়ার জন্য আরো ১৫টি দল প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া প্রতি সিটি করপোরেশনে র্যাবের ৫০ জন করে গোয়েন্দা নিয়োজিত থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুসারে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত হচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশনে। এ সিটির ৩১টি ওয়ার্ড এবং ২৮৮টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের ৩১টি ভ্রাম্যমাণ এবং ১১টি স্ট্রাইকিং দল, র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৬টি দল, ৭ প্লাটুন বিজিবি এবং ৩ প্লাটুন কোস্টগার্ড নিয়োগ হতে যাচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রের জন্য নিয়োগ হতে যাচ্ছে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের ৩০টি ভ্রাম্যমাণ এবং ১০টি স্ট্রাইকিং দল, র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৫টি দল এবং ৫ প্লাটুন বিজিবি। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের ১০০টি ভোট কেন্দ্রের জন্য নিয়োগ হতে যাচ্ছে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের ৩০টি ভ্রাম্যমাণ এবং ১০টি স্ট্রাইকিং দল, র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৫টি দল, ৪ প্লাটুন বিজিবি এবং ২ প্লাটুন কোস্টগার্ড। সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের ১২৭টি ভোট কেন্দ্রের জন্য নিয়োগ হতে যাচ্ছে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের ২৭টি ভ্রাম্যমাণ এবং ৯টি স্ট্রাইকিং দল, র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৪টি দল এবং ৫ প্লাটুন বিজিবি।
কোথাও কোন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয় নজরে এলে বা নির্বাচনী অপরাধ সংঘটিত হলে এসব ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং দল সাথে সাথে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করবে এবং প্রয়োজনে বিচারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী বা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে যোগাযোগ করবে। এসব দল ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলো কর্ডন করে রাখার এবং নির্বাচনোত্তর সহিংসতা রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রতিটি সিটি করপোরেশন এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য গত ২৭ মে থেকে ১০ জন করে মোট ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এসব ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ১৫ জুন বা ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ম্যাজিস্ট্রেটরা ১৩ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল কোর্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটরাও ভোট গ্রহণের দিন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হবেন প্রতি সিটিতে ৫ জন করে। তারা ১৩ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত নির্বাচনী অপরাধের জন্য সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করবেন।
