পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনী প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় বাঙালিদের ডাকা হরতাল চলছে। গতকাল সোমবার হরতালের দ্বিতীয় দিনে রাঙ্গামাটিতে হরতাল সমর্থনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। বান্দরবানে সারাদিন মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, দুপুরে হরতাল সমর্থনকারীরা বনরূপা এলাকায় দৈনিক প্রথম আলোর কয়েকটি কপিতে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ এসে পিকেটারদের ধাওয়া দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সেখানে দায়িত্বরত বাংলা ভিশন ও দৈনিক ভোরের কাগজের সাংবাদিক নন্দন দেবনাথ ইটের আঘাতে আহত হন।
বাঙালি সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদকীয়তে হরতাল বিষয়ে বাঙালি বিরোধী বক্তব্য আসার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ ও পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করেছেন। এদিকে রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার ও মানিকছড়িতেও পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করে হরতালকারীরা। সকালে রঙ্গামাটির রেডিও স্টেশন এলাকায় সংবাদপত্রবাহী গাড়ি আটকে দেয় হরতাল সমর্থক করা। তারা গাড়ি থেকে পত্রিকার হকার শিবু দাশকে নামিয়ে বেদম মারধর করে।
মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, মহালছড়িতে শান্তিপূর্ণ হরতাল চলছে। কোন পিকেটার রাস্তায় দেখা যায়নি। তবে দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ পাহারা থাকলেও রাস্তাগুলো ছিল বাঙালি ছাত্র পরিষদের পিকেটারদের দখলে। তবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, দ্বিতীয়দিনে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল চলছে। সকাল থেকেই হরতালের সমর্থনে সমঅধিকার আন্দোলন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতাকর্মীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেন। তারা খণ্ডখণ্ড মিছিল এবং রাস্তায় পিকেটিং করে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
হরতালের কারণে বান্দরবান জেলা শহরসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে শহর ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোন যানবাহন। বন্ধ রয়েছে শহরের দোকানপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ, গত ২৭ মে বিতর্কিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকার। ওই প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে গত শনিবার সমঅধিকার আন্দোলনসহ বাঙালি সংগঠনগুলো রবিবার থেকে তিন পার্বত্য জেলায় টানা ৭২ ঘন্টা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
