দুর্নীতি প্রতিরোধ ছাড়া বাজেট হবে অপরাজনীতির উত্স

আপডেট : ১০ জুন ২০১৩, ২৩:০৫
আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সুশাসনের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার। অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি শতভাগ প্রতিরোধ করা না হলে উন্নয়ন বাজেট হবে অপরাজনীতির উত্স। তাই উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা, নকশা ও দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল সোমবার ঢাকা চেম্বার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন চেম্বার সভাপতি মো. সবুর খান। চেম্বার সহ-সভাপতি আবসার করিম চৌধুরী ও নেসার মাসুদ খানসহ পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। মো. সবুর খান বলেন, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের শুদ্ধতা তদারকি করতে কোন কর্তৃপক্ষ নেই এবং এ লক্ষ্যে বাজেটে কোনো বরাদ্দও দেখা যায় না। এ খাতে বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। এ বাজেটে সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণে বড় ব্যয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাস্তবায়ন করতে পারলে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। বাস্তবায়ন না হলে এডিপির বড় অংশ অব্যবহূত থাকবে। তবে তড়িঘড়ি বাস্তবায়ন করতে গেলে এ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যেতে পারে। আগামী অর্থবছরে বাজেটে অর্থ সংস্থান করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে সবুর খান বলেন, চলতি অর্থবছর সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরও বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় এবং বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে রাজস্ব আদায়ের জন্য এনবিআর যেন ব্যবসায়ীদের উপর জোর-জবরদস্তি না করে এ ব্যাপারে সরকারকে তদারক করতে হবে। ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণ কমিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন ও লাভজনক করে টাকা তোলার পরামর্শ দেন তিনি। চেম্বার সভাপতি আগামী বাজেটের বেশকিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি পিপিপি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, কয়লানীতি চূড়ান্ত না করা, স্থায়ী বিদ্যুতকেন্দ স্থাপন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার গতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন। নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো এবং আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করে সবুর খান বলেন, এ সুযোগের ফলে শিল্পায়নের জন্য জমি ও ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যাবে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তাই এ সুযোগ শুধু শিল্পায়নে দেয়ার দাবি জানান তিনি। সামপ্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে ব্যবসায়ী নির্যাতন ও হয়রানির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. সবুর খান বলেন, আইন-শৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর হাতে একাধিক ব্যবসায়ী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদেরকে ধরে নিয়ে অন্যায়ভাবে টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দেয়া না হলে চালানো হয় নির্যাতন। পাশাপাশি হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত নিন্দাজনক ও উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে উদ্যোক্তারা তাদের কাজে আগ্রহ হারাবেন।