ভারতের প্রধান বিরোধী দল দক্ষিণপন্থী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ লালকৃষ্ণ আদভানি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি তাদের একজন বিতর্কিত নেতা নরেন্দ মোদিকে ভারতের আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রচারাভিযানের প্রধান হিসাবে নিয়োগ করার একদিন পরই আদভানি দলের সকল পদ থেকে গতকাল সোমবার পদত্যাগ করলেন। দল তাকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেছেন। আদভানি বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। খবর বিবিসি বাংলা ও এনডিটিভি’র।
এল কে আদভানি দলের সংসদীয় বোর্ড, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং নির্বাচনী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিজেপি প্রধান রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, তিনি আদভানির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন না। পদত্যাগপত্রে আদভানি বলেন, দল এখন যে পথে যাচ্ছে তাতে তিনি অসন্তুষ্ট এবং দলটির বেশিরভাগ নেতাই তাদের ব্যক্তিগত এজেন্ডা ছাড়া আর কিছু নিয়ে ভাবছেন না। আগামী নির্বাচনের প্রচারাভিযানের প্রধান নিয়োগের জন্য বিজেপি দু’দিন ধরে যে বৈঠক করে তাতেও আদভানি উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তার অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হচ্ছেন ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত রাজনীতিবিদদের অন্যতম এবং তাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে তীব্র বিভক্তি রয়েছে। এল কে আদভানিসহ দলের বেশকিছু সিনিয়র নেতাই নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের প্রধান হিসাবে নিয়োগের বিরোধিতা করেন। ২০০২ সালে গুজরাটে সামপ্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত এক হাজার মুসলিম নিহত হয়েছিলেন। মোদিকে সেই দাঙ্গার একজন উস্কানিদাতা হিসাবে মনে করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সে সময় দাঙ্গা থামানোর জন্য কিছুই করেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আদভানি তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার না করলে বিজেপি একটা সংকটের মধ্যে পড়তে পারে।
