জামায়াতের হরতালে গতকাল রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হরতাল চলাকালে যানবাহন চলাচল ছিল প্রায় স্বাভাবিক। অনেক দোকানপাটও ছিল খোলা। আদালত অবমাননার দায়ে জামায়াতের তিন নেতার জেল ও অর্থ জরিমানা করায় সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা এ হরতাল আহ্বান করা হয়।
বেলা পৌনে ১টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের উল্টোদিকে আইল্যান্ডের কাছে হরতাল সমর্থকরা মিছিল বের করে। এ সময় তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সকালে হরতাল প্রত্যাখ্যান করে গণজাগরণ মঞ্চ একটি মিছিল বের করে। এরপরই টিএসসির দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক শাহবাগে ককটেল ফাটিয়ে দ্রুত কাঁটাবনের দিকে চলে যায়। ভোর সাড়ে ৫টায় শিবির ঢাকা মহানগরী (দক্ষিণ) রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় মিছিল করে। এ সময় তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ আসার আগেই হরতাল সমর্থকরা স্থান ত্যাগ করে। ভোর ৬টায় যাত্রাবাড়ীর নবীনগরে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়।
ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে বাংলাবাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার আগেই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। একই সময় রাজধানীর বনশ্রীতে ঢাকা মহানগরী পূর্ব ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি রিয়াজুল হক রিয়াজের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল করে শিবির। এ সময় তারা রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে লক্ষ্মীবাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে কবি নজরুল কলেজ ছাত্র শিবির। পরে পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল সোয়া ৮টার দিকে গোপীবাগে একটি মিছিল বের করে মতিঝিল থানা জামায়াত। মিছিল শেষে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানায় তারা। সমাবেশ শেষে ঘটনাস্থলে পুলিশ হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া করে। পরে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
এদিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সারাদেশে হরতাল চলাকালে কয়েকটি স্থানে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ২টি গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে এবং ১৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় পিকআপ ভ্যানের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে এসআই নুরুজ্জামান ও কনস্টেবল আবু সাঈদ আহত হন। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, অর্থনীতি ধ্বংস ও দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে যারা বিক্ষিপ্তভাবে সহিংস ও ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে তদন্তপূর্বক দ্রুত সেসব দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
