জয়ের রেকর্ড ধরে রাখতে পারবেন খালেক?

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২১:৫৯
সদ্য খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) থেকে বিদায়ী মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যে কয়টি নির্বাচনে ইতিপূর্বে অংশ নিয়েছেন, তার কোনোটিতেই পরাজিত হননি। একারণে রাজনীতিবিদসহ সকলের কাছে ‘অপরাজেয়’ নেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত। কিন্তু এবারের খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার জয়ের সেই আগের ধারা বজায় থাকবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন মেয়র থাকাকালে গেল পাঁচ বছরে তার বিরুদ্ধে রয়েছে হঠাত্ রেগে যাওয়া, গালমন্দ করা’ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ, এমনকি মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ। এ বিষয়টি খুলনা শহরের রিকশা চালক থেকে শুরু করে সব মহলের মানুষই কমবেশি জানেন। এদিকে, বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বাগেরহাটের একটি বড় অংশের মানুষ তালুকদার আব্দুল খালেকের উপর ক্ষুব্ধ। অনুরূপভাবে সাবেক বিএনপি নেতা ও স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলীকে তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান করায় অনেক ত্যাগী নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রচারণার ক্ষত্রে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। পাশাপাশি মেয়র থাকাকালে অঢেল টাকার মালিক বনে যাওয়ার বিষয়টিও ব্যাপকভাবে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে বিগত দিনের জয়ের রেকর্ড ধরে রাখা তার জন্য কতটা সম্ভব হবে তা দেখার অপেক্ষায় আছেন নগরীর ভোটাররা। একটি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে কেসিসি নির্বাচনের হলফনামায় তালুকদার খালেক বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছিলেন দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। তখন তার স্ত্রী বাগেরহাট-মংলা আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহারের কোনো আয় ছিল না। কিন্তু এবারের নির্বাচনে হলফনামায় তার স্ত্রীর আয়সহ বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন ৫ কোটি ৯৩ হাজার ২৫০ টাকা। হিসাব করলে দেখা যায়, পাঁচ বছর মেয়র থাকাকালীন সময়ে তার আয় বেড়েছে ১৭১ গুণ। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিত্তবৈভব বেড়ে যাওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে। তবে কেসিসির মেয়র থাকাকালে খালেক খুলনা নগরীর যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন, যেটা আগের অনেক জনপ্রতিনিধি পারেননি। তাই দোষত্রুটি ছাপিয়ে এ উন্নয়নমূলক কাজের জন্যই হয়তো এবারের নির্বাচনী বৈতরণি তিনি পেরিয়েও যেতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তালুকদার আব্দুল খালেকের নিজের যোগ্যতা ও ইমেজের কারণেই কোনো নির্বাচনে তার পরাজয়ের রেকর্ড নেই। প্রথমে তিনি কেসিসিতে ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। টানা তিনবার বাগেরহাটের রামপাল-মংলা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একবার প্রতিমন্ত্রী এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।