বিশ্বের প্রতি তিন শিশু শ্রমিকের মধ্যে দুইজনই গৃহকর্মী

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৪৫
২০১৬ সালের মধ্যে দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেও এখনো অসংখ্য শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত। এর মধ্যে গৃহকর্মী অন্যতম। গৃহকর্মী এসব শিশুর সুরক্ষায় এখনো নীতিমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। বর্তমানে নীতিমালাটির খসড়া সংশোধন পর্যায়ে রয়েছে বলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রতি তিন শিশু শ্রমিকের মধ্যে দুইজনই গৃহকর্মী। এমন পরিস্থিতিতে ‘গৃহকর্মে শিশুশ্রমকে না বলুন’ এই আহ্বানকে সামনে রেখে আজ গোটা বিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নো টু চাইল্ড লেবার ইন ডমেস্টিক ওয়ার্ক’। দিবসটি উপলক্ষে আজ নগরীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় সেমিনারসহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটির সাফল্য কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী । গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মজিবুর রহমান দেশে শিশুশ্রম নিরসনে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। সচিব বলেন, বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে এখনই পুরোপুরিভাবে শিশু গৃহশ্রম নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে শিশুশ্রম সম্পর্কিত আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। শিশুদের নিরাপদ গৃহশ্রম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা প্রসঙ্গে মজিবুর রহমান বলেন, শিশুসহ অন্য গৃহ শ্রমিকদের একটি কাঠামোতে আনার জন্য তৈরি নীতিমালাটির খসড়া সংশোধন পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সংশোধনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। যার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পেশার ৪০ হাজার শিশুকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এখন ৩য় পর্যায়ের কাজ চলছে। এতে আরো ৫০ হাজার শিশুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব শিশুকে মাসে মাথাপিছু ১৫০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইএলও’র সহায়তায় শিশুশ্রম বিষয়ক জাতীয় শিশুশ্রম সমীক্ষা চলছে যার ফলাফল ২০১৪ সালের জুন নাগাদ পাওয়া যাবে। এ বছর শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আইএলও, সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম সম্মিলিতভাবে পালন করছে। সংবাদ সম্মেলনে আইএলও’র কান্ট্রি ডেপুটি ডিরেক্টর গগন রাজ ভান্ডারি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ’ অনুমোদন করে। ১৯৯২ সালের ১২ জুন আইএলও শিশুশ্রম বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরপর থেকে প্রতিবছর দিবসটি ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।