এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহত হবার তথ্য সংগ্রহের দাবি ‘অধিকারে’র

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৪৭
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় এ পর্যন্ত ৬১ জনের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের দাবি করেছে মানবাধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংগঠন ‘অধিকার’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশ এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরও তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এতে বলা হয়, ঘটনার দিন কত লাশ কিভাবে কোথায় সরানো হয়েছে এবং নিহত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা কঠিন কাজ হলেও মানবাধিকারের দিক থেকে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে ‘এক শ্রেণীর শিক্ষিত মানুষের নীরবতায়’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকার। একইসঙ্গে ওই সমাবেশে শিশুদের নিয়ে আসারও সমালোচনা করা হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ মে সকালে ঢাকার প্রবেশ মুখগুলোতে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হয় হেফাজত কর্মীরা। সরকারি দলের সন্ত্রাসীদেরকে পুলিশ সহযোগিতা করে। এরপর সড়কে বিদ্যুত্ বন্ধ করে রাত সোয়া দুইটার দিকে যৌথবাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র হেফাজত কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গরম পানি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছুঁড়তে থাকে তারা। অভিযানের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার ভয়ে বিরোধী দলীয় টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকার বলেছে ১১ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু অধিকারকে হেফাজত বলেছে, ২০২ জন নিহত এবং আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। অনুসন্ধান চালিয়ে অধিকার এখন পর্যন্ত ৬১ জনের নাম সংগ্রহ করতে পেরেছে। প্রতিবেদনে সুপ্রিমকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, এই কমিটি হতাহত মানুষের সংখ্যা ও তাদের অবস্থানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।