সরকারিভাবে চাল কেনার কারণে বাজারে সরবরাহ কমেছে। এতে বস্তাপ্রতি দাম প্রায় ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান চলে গেছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে। তারা মজুদ করে ধানের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। পাইকারি ক্রেতারা জানান, এর সাথে বাড়তি পরিবহন ভাড়া ও পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে চালের ক্রয় মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। সীতাকুন্ডে ওভারলোড কন্ট্রোল মেশিনে ট্রাকে বাড়তি পণ্যের অভিযোগ করে হয়রানি ও ট্রাক ১/২ হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় করছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
চাল মিল মালিক সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারিভাবে চাল কেনা হচ্ছে। কেজি ২৯ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মিল মালিকদের সাথে সরকারের চুক্তি অনুযায়ী চাল কেনা হচ্ছে। সাধারণত মোটা চাল সরকারিভাবে কেনা হয়ে থাকে। দেশিয় বাজারে মিনিকেটসহ অন্যান্য চিকন চাল বেচা-কেনা হয়। মিল মালিকরা জানান, বাজারে ধানের দাম বেড়েছে। মধ্যস্বত্ব্বভোগীরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মজুদ করে রেখে চালের বাজারে সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তাদের সুবিধা মতো সময়ে এসব ধান বিক্রি করবে। এখন কৃষকদের কাছে বাড়তি কোন ধান নেই। মজুদকারীদের কাছে চলে গেছে। ফলে মিল মালিকদের চড়া দামে ধান কিনতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মিল মালিক মো. ইউনুস আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী এখন সরকারকে চাল সরবরাহ দিতে হচ্ছে। না হয় লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। ধানের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দাম কেজিতে এক টাকা করে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।’ অপর মিল মালিক আবদুল ওহাব বলেন, ‘বাজারে সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। চুক্তি মেনে সরকারকে চাল বিক্রি করতে হবে।’
বাজারে মোটা চালের চেয়ে মিনিকেটসহ চিকন চালের চাহিদা বেশি। তবে বাজারে মিনিকেট চালের সাথে অন্য জাতের চিকন চাল মিশিয়ে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। মিনিকেট চালের সাথে বি-২৯, ২৮ ও ৪৪৯ জাতের ধানের চাল মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে সাধারণত নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুর থেকে চাল এনে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে শতশত টন চাল চট্টগ্রামে আসে। চট্টগ্রামে পাহাড়তলী ও চাক্তাই চালের প্রধান পাইকারি বাজার। এই দু’টি বাজার থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ক্রেতারা নিয়ে যায়। পাহাড়তলী বাজারে চাল ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সরকারিভাবে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কেনার কারণে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এতে বস্তাপ্রতি (২ মণ) ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বড় দারোগাহাট এলাকায় স্থাপিত ওভারলোড কন্ট্রোল মেশিনে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চরম হয়রানি ও বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাকে ২০ টন থেকে কিছু বেশি হলে ১/২ হাজার টাকা আদায় করছে সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় মামলা দিচ্ছে। অথচ যমুনা সেতুর ওভারলোড কন্ট্রোল মেশিনে ২৩ টন পর্যন্ত ছেড়ে দেয়া হয়।’ গত ১ জুন ওভারলোড কন্ট্রোল মেশিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সড়ক ও জনপথ, পুলিশ, পরিবহন সমিতির প্রতিনিধি ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই মেশিনের কার্যক্রম তদারকি করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে এই কন্ট্রোল মেশিনের তদারককারীদের বিরুদ্ধে বাড়তি সুবিধা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে রেগনাম রিসোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘ট্রাকের ওজন পরিমাপ করা হয়। ৬ চাকা ট্রাক ২০ টন ও ১০ চাকার ট্রাকের ২৮ টন পরিবহন করার নিয়ম রয়েছে। এর বেশি হলে মামলা অথবা জরিমানা প্রদান করা হয়। এখানে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের কোন সুযোগ নেই। ওভারলোডের কারণে ইতিমধ্যে ৭৫টি মামলা হয়েছে।’
