খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী ও চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা অনেক সন্ত্রাসী শহরে ফিরতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের দেখা গেছে। উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে তারা ভোট প্রার্থনা করছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, বস্তি, ঘনবসতি এলাকা ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে তারা অবস্থান করছে। নগরীর আশপাশ এলাকাগুলোতে তারা শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় অপরিচিত যুবকদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। কয়েকদিন আগে রূপসা এলাকায় প্রকাশ্যে একজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ জোড়া খুনের ঘটনায় তাদের আতংক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের লালন-পালনে প্রার্থীরা মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সাথে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্বাচনে অঘটনের আশঙ্কা করছেন কয়েকজন প্রার্থীও। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বাড়তি নিরাপত্তায় প্রোটোকলের গানম্যান ছাড়াও আরেকজন গানম্যান নিয়েছেন। জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধুও গানম্যান নিয়েছেন। প্রার্থীদের কয়েকজন ছাড়াও সাধারণ মানুষ মনে করে, ভোটারদের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাটা জরুরি।
এদিকে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশ ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনা করছে দাবি করা হলেও এ পর্যন্ত তেমন কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি তারা। প্রতিরাতে নামকাওয়াস্তে অভিযান চালানো হলেও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থাকায় এসব সন্ত্রাসীকে পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে। কিন্তু পুলিশ বলছে, প্রকাশ্যে কোন সন্ত্রাসী ঘুরে বেড়ানোর কোন খবর তাদের কাছে নেই। পুলিশ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের সংখ্যা জানানোর ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছে। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তাও সন্ত্রাসীদের তালিকা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন প্রার্থী ও নগরবাসী। তাদের মতে, সন্ত্রাসীদের কোন দল বা আদর্শ নেই। টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে অতীতে এদের কাজ করতে দেখা গেছে। নির্বাচনে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত কয়েকদিন ধরে নগরীতে অপরিচিত যুবকদের আনাগোনা বেড়েছে। নতুন মোটর সাইকেল ও গাড়ি চলাচল বেড়েছে। বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাজার, বড় বাজার, রূপসা, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তাদের বেশি দেখা যাচ্ছে। ভয়ে নগরবাসীর বেশিরভাগ লোকই সন্ধ্যা হলেই বাসায় ফিরছেন। নগরীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে নগরীর হাজী মহসিন রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড ও মুন্সিপাড়া এলাকায় সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালুসহ বেশ কয়েকটি হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার এক আসামিকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন মোটর সাইকেল আরোহীকে দেখা যায়। ওই আসামি চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) একজন সক্রিয় সদস্য। সে নতুন বাজারের একজন ব্যবসায়ীর চার্জশিটভুক্ত আসামিও। টিবিক্রস রোডের আনু হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি খুলনায় ফিরে এসেছে। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও যুবলীগ কর্মী শাজাহান হত্যারও চার্জশিটভুক্ত আসামি। বিভিন্ন অপরাধে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। বিশেষ একজন মেয়র প্রার্থীর পক্ষে রূপসা এলাকায় তাকে প্রচার-প্রচারণা চালাতে-দেখা যাচ্ছে।
