গফরগাঁওয়ে ২ বছরে সরকারি দলের পাঁচ নেতা-কর্মী খুন

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২১:৪১
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে গত দু’বছরে ৫ জন খুন হয়েছেন। ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল এমপি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ গ্রুপের মোফাজ্জল হোসেন খুন হন। প্রধান আসামী হন যুবলীগ নেতা সিজার। ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এমপির পিএস ও যুবলীগ নেতা মেহেদী হাছান ইলিয়াসকে নিজ বাড়িতে নবপরিনীতার জবাই করে মাথা কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী স্থানীয় যুবলীগ নেতা কামরুল পালোয়ান র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়। ২০১২সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পৌর যুবলীগ নেতা সাইদুলকে জবাই করে বস্তায় ভরে নতুন বাজার গোরস্থানে ফেলে রাখে। এ মামলার আসামীরা যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। গত ৮ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভরভরা নতুন বাজারে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোবারক হোসেনকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সর্বশেষ গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবি আহম্মেদকে থানা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে কুপিয়ে হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাস্তায় ফেলে রাখে। প্রায় ৪৫ মিনিট মুমূর্ষু অবস্থায় সে রাস্তায় পড়ে থাকলেও ভয়ে কেউ উদ্ধার করতে আসেনি। হাবি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতার হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত অন্য ৯ আসামীও ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত। সব মিলিয়ে গত দু’বছরে সরকারি দলের ৫ নেতা-কর্মী খুন হলেও এর দায় নিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল উদ্দিন আকন্দ বলেন, সবগুলো খুনই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে হয়েছে। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম মানিক বলেন, গ্রুপিং রাজনীতিই এসব খুনের একমাত্র কারণ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন আমু বলেন, এমপি সঠিক পদক্ষেপ না নেয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। পৌরসভা মেয়র অ্যাডভোকেট কায়সার আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে গফরগাঁওয়ে সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। ওসি (তদন্ত) রিফাত বিন রাজিব বলেন, গফরগাঁওয়ে খুনের ঘটনা আর যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করছি।