ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, ভারত সরকার তিস্তা চুক্তি সই করতে এখনো বদ্ধপরিকর। সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি কার্যকর হবেই। এই দুটি ইস্যুর জন্য ভারত সরকার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মিট দ্য প্রেস কমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনাক হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ করে সীমান্তে হত্যা, ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়ন ইস্যু, নিরাপত্তা, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেন ও প্রশ্নের জবাব দেন।
সীমান্তে গুলি ও হত্যা প্রসঙ্গে পঙ্কজ শরণ এ বছরের ছয় মাসে সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে কোন বাংলাদেশি নিহত হয়নি দাবি করে বলেন, আজ বা গতকালের তথ্য আমার কাছে নেই। তবে ছয় মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে এসেছে। কোন হত্যাই সমর্থন করি না। হত্যাকাণ্ড পরিতাপের বিষয়। আমরা প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখছি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি। দুই দেশের মধ্যে চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা। দুই দেশের সমন্বয়ে উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কাজ অনেক এগিয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে সীমান্তে সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যার কারণে তিস্তা চুক্তি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে হবে। সমস্যার উত্তরণ ঘটবে। ভারতের সব দল ও পক্ষকে এক মতে আনাও হবে। দু’ দেশের মধ্যে তিস্তার হিস্যা যে পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে সেটি বহাল থাকবে। তিস্তার পানি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে বিনা বাধায়। দু’ দেশের মধ্যে পানি প্রবাহের তথ্য বিনিময় হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে পানি সম্পদ মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হবে। এতে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, প্রবাহ নিয়ে আলোচনা হবে।
সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি বিষয়ে পঙ্কজ শরণ বলেন, ভারতীয় পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধান সংশোধন করে সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি কার্যকর করতে হবে। ভারতীয় পার্লামেন্টে বর্তমান কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। বিরোধী দলের সমর্থন লাগবে। আসন্ন অধিবেশনে এই বিলটি উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে বিজেপিসহ বিরোধী দলের সমর্থন নেয়া হবে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা ইস্যুতে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাশিত সহযোগিতার কারণে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অনেক কাজ হয়েছে। এতে দুই দেশের জনগণ ও সর্বোপরি এই অঞ্চল সুফল পাচ্ছে। ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো অস্থিতিশীল থাকলে বাংলাদেশ রেহাই পাবে না, তেমনি বাংলাদেশ অশান্ত থাকলে তা ভারতকেও স্পর্শ করবে।
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে পলাটানা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ভারি যন্ত্রপাতি ও দশ হাজার টন চাল পরিবহনের অনুমতি প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দেয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হলে বাংলাদেশ ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করতে পারবে। তিনি বলেন, ভারতীয় কোম্পানিগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশি পণ্যের কোটা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেপ্টেম্বর মাসে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সফরের দিন-ক্ষণ ঠিক হবে। বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ভারত সফর করেছেন। তার প্রতি এখন কোন আমন্ত্রণ নেই। তবে তিনি যেতে চাইলে আমরা স্বাগত জানাব। যে দলই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসুক ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। জনগণের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল থাকবো।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, কোষাধ্যক্ষ বদিউল আলম, সদস্য নুরুল হুদা, নুরুল হাসান খান, হাসান হাফিজ, মাঈনুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
