সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহত হয়ে অসংখ্য শ্রমিক বিনা চিকিত্সায় অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সমাজের অনেক বিত্তশীল ও হূদয়বান মানুষ আছেন। যারা একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই ওইসব আহত শ্রমিকরা আবারো কর্মদক্ষ ও উপার্জনক্ষম হয়ে উঠতে পারেন। রাজধানীতেই প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি মতো সরকারি-বেসরকারি নামি-দামি হাসপাতাল রয়েছে। ওইসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সাধ্যমতো আহত কিছু শ্রমিকের চিকিত্সার দয়িত্ব নেন, তাহলে হয়তো আহত অনেক শ্রমিক আবারো নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারতেন, সমাজ-সংসারের বোঝা না হয়ে ধরতে পারতেন সংসারের হাল। এ লক্ষ্যে সমাজের বিত্তশীল ও হূদয়বান মানুষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও আমদা বাংলাদেশ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জোনাইদ শফিক বলেন, সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় অসংখ্য শ্রমিক মারাত্মক আহত হয়েও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এখনো বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। শুভ, সালমা, নুরজাহান, বীণা তাদেরই মধ্যে চারজন। গাইবান্ধা শিমুলতারী গ্রামের মেয়ে বীণা। দুর্ঘটনার পর পাঁচদিন সাভারের এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকার পর, তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় পঙ্গু হাসপাতালে। পঙ্গুতে অপারেশনের পর আরো ২৫ দিন থাকেন সেখানে। কিন্তু তারপরও বীণা তার পা ও কোমর কোনভাবেই নড়াতে পারছিলেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়ে ছেড়ে দেন। এ অবস্থায় জাপান-বাংলাদেশ হাসপাতাল বীণার চিকিত্সার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বর্তামানে বীণা জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এমএ মোহিত কামাল বলেন, ওইসব আহত রোগীদের মনস্ততাত্ত্বিক পুনর্বাসন দরকার। তারা এখনো ভীতির মধ্যে রয়েছেন। তারা যদি জানতে পারে যে, সুস্থ হলেই তাদের পুনর্বাসন করা হবে, তাহলে তারা মানসিকভাবে অনেকখানি সুস্থ হয়ে যাবে। এ জন্যও বৃত্তবানদের যে যার মতো করে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত। সাংবাদিক সম্মেরলনে জানানো হয়, আগামী ৫ জুলাই আবারো জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল সাভারের অধরচন্দ্র বিদ্যালয়ে যাবে এবং তাদের হাসপাতালের সীমিত আসন সংখ্যার উপর ভিত্তি করে কিছু রোগীকে নিয়ে আসবে।
