তিন প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০১
সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত গতিতে। তাই আগামী শনিবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। সবচেয়ে ত্রস্ত-ব্যস্ত মেয়র প্রার্থীরা। কারণ নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের পাড়ায়-মহল্লায় গণসংযোগ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে প্রার্থী ও তাদের কর্মীবাহিনীর। তিন মেয়র প্রার্থী সাংবাদিক সম্মেলন করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণার। এ জন্য শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটের সময় ঘনিয়ে আসায় খুলনা নগরীতে এখন উত্সবের আমেজ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটের জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম খুলনায় এসে পৌঁছেছে। খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা হলেন-সম্মিলিত নাগরিক কমিটি সমর্থিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আব্দুল খালেক। সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরাম সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি। এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির নাগরিক উন্নয়ন কমিটি সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। মেয়র প্রার্থী তিনজন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই জনের মধ্যে। এরা হলেন সদ্যবিদায়ী মেয়র ও ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এবং অপরজন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচারের শেষ মুহূর্তে প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন সব মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। খুলনা মহানগরী পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মাইকের শব্দে সরগরম হয়ে উঠেছে নগরীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা। তবে উত্সব আমেজের পাশাপাশি নগরবাসীর মনে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা। নির্বিঘ্নে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারবেন তো। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই। সে ধরনের কোন আশংকাও তারা করছেন না। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য খুলনায় যা করার তা করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের মহড়া সম্পন্ন করেছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড থাকছে এ সিটির আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে খুলনা শহরকে। তিন প্রার্থীর প্রচারণা : হেভিওয়েট প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার সমাপনী দিনের গণসংযোগ শুরু করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন মার্কেট এলাকা থেকে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি গণসংযোগ করেন ১৬, ১৭ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ময়লাপোতা থেকে তার শেষ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এর পর একে একে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ব্যাপক গণসংযোগ করেন। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু খালিশপুর-দৌলতপুর এলাকা থেকে শেষ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। বিকাল পর্যন্ত তিনি গল্লামারি, বানরগাতী বাজার, রূপসা বাজার, বৈকালী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এদিকে নগরীর সাধারণ বেশ কিছু ভোটারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, পরবর্তী মেয়র হিসেবে যিনি আগামী দিনে খুলনা মহানগরীর সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন ব্যক্তিকে চাইছেন নাগরিকরা। যিনি থাকবেন এলাকার উন্নয়নে নিবেদিত। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করবেন এমন একজনকেই ভোটের মাধ্যমে নগরের দায়িত্ব দেবেন তারা। মেয়র প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন :খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন তিনজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তালুকদার আব্দুল খালেক ভোট দেবেন পাইওনিয়ার গার্লস স্কুল কেন্দ্রে। অপরদিকে মনিরুজ্জামান মনি ভোট দেবেন খুলনা আলীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে। আর শফিকুল ইসলাম মধু ভোট দেবেন খুলনা কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে। আবারও ভোট দেয়ার আহবান খালেকের : উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক উন্নয়ন কমিটির মেয়র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক তাকে আবারও মেয়র পদে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে খুলনাবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস.এম মোস্তফা রশিদী সুজা, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, মহানগর জাসদ সভাপতি রফিকুল হক খোকন, অসীত বরণ বিশ্বাস প্রমুখ। সেনা মোতায়েনের দাবি করেছেন মঞ্জু : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকে বার বার আচরণবিধি লংঘন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত অন্তত: ১৫টি অভিযোগ রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে দেয়া হলেও একটিরও কোন সুরাহা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর হাজী মুহসীন রোডস্থ ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের মেয়রপ্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, বিএনপি নেতা সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী প্রমুখ। দুই মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে জাপা প্রার্থীর অভিযোগ :খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত নাগরিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু প্রতিপক্ষ দুই মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের মত দুরভিসন্ধিমূলক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনে আছি, নির্বাচনে থাকছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখ্ত, সাবেক এমপি শেখ আবুল হোসেন, সাবেক এমপি মোক্তার হোসেন, মোল্লা মুজিবর রহমান প্রমুখ।