যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০৩
যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের রেমিটেন্স প্রেরণকারী এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো টিকিয়ে রাখতে এখনো কোন উপায় পাওয়া যায়নি। যদিও উপায় খুঁজতে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এক্সচেঞ্জের হিসাব পরিচালনাকারী বার্কলেস ব্যাংকের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন, বৈঠক হয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার স্থানীয় এমপি রুশনারা আলীর সাথেও। অন্যদিকে লন্ডনস্থ সোনালী ব্যাংকও এ প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব পরিচালনার জন্য ক্লিয়ারিং ব্যাংকের অনুমোদন পায়নি। ফলে বাংলাদেশে অর্থপ্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকানো না গেলে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা চাঙ্গা হবে এবং বাংলাদেশের রেমিটেন্সে তা মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। উল্লেখ্য, ব্রিটেনে মানি ট্রান্সফার ব্যবসা পরিচালনার জন্য অর্থপ্রেরণকারী এজেন্সিগুলোকে ক্লিয়ারিং ব্যাংকে একটি হিসাব (মানি সার্ভিসেস বিজনেস একাউন্ট বা এমএসবি হিসাব) পরিচালনা করতে হয়। ব্রিটেনে অর্থ আদান-প্রদানকারী প্রায় ৮০ শতাংশ এজেন্সির এমএসবি হিসাব বার্কলেস ব্যাংকের সাথে। বাংলাদেশের ১১টি ব্যাংক যুক্তরাজ্যের বার্কলেস ব্যাংকে ও ২টি ব্যাংক নেট ওয়েস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনা করে। আগামী ২০ জুলাইয়ের পর বার্কলেস ব্যাংক রেমিটেন্স সেবা প্রদান সংক্রান্ত কোন হিসাব পরিচালনা করবে না বলে জানিয়েছে। এতে এই ব্যাংকে হিসাব পরিচালনাকারী বাংলাদেশের ১১টি ব্যাংক বিপাকে পড়েছে। মানি ট্রান্সফার ব্যবসায় অর্থ পাচার কিংবা সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি থাকার কারণে ব্রিটেনের অন্যান্য বড় বড় ব্যাংক ছোট পরিসরের প্রতিষ্ঠানগুলোর এমএসবি হিসাব অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিটেনস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস গত সোমবার বার্কলেসের কয়েকজন পরিচালকের সাথে সাক্ষাত্ করেন। একাউন্ট পুরোপুরি বন্ধ না করে বার্কলেসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে আরো কোনো নতুন শর্ত যোগ করে হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি। অন্যদিকে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিঃ-কে সর্বশেষ ভরসা হিসেবে প্রত্যাশা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো সহয়তা দিতে পারছে না। সোনালী ব্যাংক ইউকে লিঃ-এর চিফ ফাইন্যান্স অফিসার আমিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অন্তত বাংলাদেশি ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে সহায়তা দেয়ার জন্য তারা সোনালী ব্যাংকের ক্লিয়ারিং ব্যাংক নেটওয়েস্টের অনুমোদন চেয়েছিলেন। কিন্তু নেটওয়েস্ট এ ধরনের অনুমোদন দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী আনিসুর রহমান বলেছেন, অন্য কোনো ব্যাংক এমএসবি হিসাব খোলার বিষয়ে কথা বলতেও রাজি না। তিনি বলেন, টিকে থাকতে হলে এখন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্য কোনো বিদেশি মানি ট্রান্সফার হাউজের সিস্টার কনসার্ন হয়ে কিংবা প্রোফিট শেয়ারের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে এসব বিদেশি কোম্পানি টাকার রেইট নির্ধারণে প্রাধান্য বিস্তার করবে এবং উচ্চমূল্যে সার্ভিস চার্জ নিতে পারে। ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত বেশিরভাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। পূবালি মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপক মহিউল ইসলাম বলেন, বার্কলেস ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তে ব্রিটেনের কোনো জাতীয় স্বার্থের বিষয় থাকতে পারে। একমাত্র উচ্চ মহলের কোনো লবিং বিষয়টির সুরাহা করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।