বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি বিপণন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিঃ (এসএওসিএল) এর এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিপণনের সুযোগ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়। গত সপ্তাহে বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন এসএওসিএল, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সাপ্তাহিক সমন্বয় সভায় এসএওসিএল-এর এলপি গ্যাস বিপণনে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং এর পরিচালনায় বিপিসি’র কোন নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সভায় এসএওসিএল কোন্ প্রক্রিয়ায় এলপিজি বিপণনের সুযোগ পেয়েছে অবিলম্বে তার তথ্য উপস্থাপন করার জন্য বিপিসি’র বিপণন বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিপণনের টাকা এসএওসিএল-এর হিসাবে জমা না রেখে ব্যক্তি হিসাব নাম্বারে জমা রাখার বিষয়টি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এলপিজি বিপণনে অনিয়মসমূহ তদন্ত করে দেখা ও বিপিসি’র নিয়মকানুন এবং আইন অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এসএওসিএল-এর ডিজিএম’র সমন্বয় সভায় বার বার অনুপস্থিতির বিষয়টি সমন্বয় সভায় আলোচনায় আসে এবং এ ব্যাপারে তাগাদা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।
বিপিসি’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসএওসিএল’র শতকরা ৫০ ভাগ শেয়ার বিপিসি’র থাকলেও এটির ওপর বিপিসি’র কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এর লোক নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং এলপিজি বিপণনের ক্ষেত্রে এসএওসিএল’র ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। এসএওসিএল’র মূল দায়িত্ব পালন করছেন একজন ডিজিএম পদমর্যাদার কর্মকর্তা। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে উক্ত ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার কাজী শাহেদ ওই পদে থেকে সকল বিপণন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে জানা যায়। স্বাধীনতার পর থেকে এটি বিপিসি’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সে হিসাবে এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দায়িত্ব পালন করেন। বিপিসি’র সচিব পদাধিকার বলে পরিচালক হিসাবে থাকেন। বিপিসি’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসাবে এর দায়িত্ব পালনকারী বর্তমান ডিজিএমসহ সকল কর্মকর্তা বিপিসি’র অনুমতি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান ডিজিএম কোন অনুমতি ছাড়াই মাত্রাতিরিক্ত বিদেশ ভ্রমণ করেন। এর কারণেই অনেক সময়ই তিনি সাপ্তাহিক সমন্বয় সভায় অনুপস্থিত থাকেন। যার কারণে গত সমন্বয় সভায় উষ্মা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
জানা যায়, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ন্যায় এসএওসিএল বিপিসি’র বিপণন কোম্পানি হলেও এটি প্রথম থেকেই শুধু লুব্রিকেন্ট অয়েল বিপণনের দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু গত ২০০০ সালের পর থেকে এলপিজি ও বিটুমিন বিপণন শুরু করে। ২০১১ সালে ফার্নেস অয়েল এবং ২০১২ সালে ডিজেল বিপণন শুরু করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এলপিজিসহ অন্যান্য পণ্য বিপণনে বিপিসি থেকে অনুমতি নেয়া হলেও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে যথাযথ আইন ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
জানা যায়, এ সকল অভিযোগের কারণেই তাদের বিপণনের অনুমতির ব্যাপারে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এলপিজিসহ অন্যান্য পণ্য বিপণনের টাকা এসএওসিএল’র হিসাবে জমা না করে এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানী লিঃ নামে একটি হিসাবে জমা দেয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। এসএওসিএল’র প্রায় ৩০০টি ডিলার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭/৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতকরা ৮০ ভাগ বিপণন হয়। বাকি মাত্র ২০ ভাগ এলপিজি অন্যান্য ডিলার ও ব্যক্তি পেয়ে থাকে। বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এসএওসিএল’র ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে এবং অনেক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো যাচাই করার জন্য দেয়া হয়েছে।
