নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী চার সিটির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খুলনা সিটি করপোরেশন। চার সিটির নিরাপত্তা বাহিনীর এক তৃতীয়াংশই খুলনা সিটির জন্য। শনিবার নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে শিল্প নগরী খুলনাকে।
খুলনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে খুলনা মেট্রাপলিটন পুলিশের কমিশনার (কেএমপি) সফিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করতে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ইতিমধ্যে নগরীতে পুলিশ-বিজিবি-র্যাব-আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশিও চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীতে ৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামানো হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর রূপসা ও ভৈবর নদীতে ৩ প্লাটুন কোস্টগার্ড নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া নগরীর ৪৫ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী ৩১টি ওয়ার্ডে টহল শুরু করেছে র্যাব, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনের আগের দু’দিন, নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী দিন এ টহল ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচনে সাধারণ ৩১টি ও সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের জন্য এবার তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি ও র্যাব ছাড়াও পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসারের সমন্বয়ে মোবাইল ফোর্সের ৩১টি টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সের ১১টি টিম রয়েছে। এছাড়া র্যাবের ৫শ’ সদস্যের ১৬টি ও কোস্টগার্ডের ৩টি বিশেষ টিম রয়েছে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ২৫ জন এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ৫ জন। এদিকে র্যাবের সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৫০ জন সদস্য সাদা পোশাকে ও সাড়ে ৪শ’ সদস্য পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোট কেন্দ্র নিরাপত্তায় ৪ হাজার আনসার
কেসিসি নির্বাচনে ৩১টি ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় ৪ হাজার ৩২ জন আনসার নিয়োগ করা হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ৯ জন পুরুষ এবং ৫ জন মহিলা আনসার থাকবে। মহানগরী এলাকায় ২৮৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা আনসার এ্যাডজুটেন্ট-এর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রতিটি কেন্দ্রে দু’জন করে সশস্ত্র আনসার থাকবে। প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশে আনসাররা দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিক পরিস্থিতি আনসারের পক্ষ থেকে মনিটরিং করবে জেলা এ্যাডজুটেন্ট।
অস্ত্রধারীদের ভয় পাচ্ছেন ভোটাররা
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখী দাঁড়িয়ে সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আব্দুল খালেক ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি। নির্বাচনের শেষভাগে এসে অস্ত্রধারী সর্বহারা-চরমপন্থীদের ভয় পাচ্ছেন ভোটাররা। সাধারণ ভোটারদের শংকা, শহরের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা বলছেন, কি হবে ভোটের দিন। কেন্দ্রে ঠিকমত গিয়ে ভোট দিতে পারবেনতো? ভোটের দিন যেকোনো মুহূর্তে সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এ কারণেই যত আশঙ্কা ভোটারদের।
