পিছিয়ে পড়াদের নিয়ে

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ১৯:৫৯
যারা সর্বনিম্ন জিপিএ প্রাপ্তদের উপযুক্ত নার্সিংয়ের মাধ্যমে জিপিএ ফাইভ অর্জনে সহায়তা করে তারা ভালো, না কি সর্বোচ্চ জিপিএ নিয়ে ভর্তি হয়েও যেসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই ভর্তিকৃত সময়ের প্রাপ্ত জিপিএর চেয়েও কম পাচ্ছে, তারা ভালো প্রতিষ্ঠান—এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন রাজধানীর আদাবর, মোহাম্মদপুরে অবস্থিত কুইন্স কলেজের জিবি’র সদস্য অ্যাডভোকেট কে এম হাসান। উল্লেখ্য যে, পাসের হার ও জিপিএ প্রাপ্তির দিক থেকে প্রথম এইচএসসি ফলাফলেই কুইন্স অত্র এলাকার তৃতীয় সফল কলেজ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেবার এই কলেজের ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন ব্যতীত সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭ জন। এই কলেজটি ২০০৮ সালে মোহাম্মদপুরে ১৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এটিই ছিল তাদের প্রথম ব্যাচ। এদের পাঠ পরিকল্পনার দিকে তাকালে কিছু বিশেষত্ব অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. কে এফ হুদা বলেন, ‘জোর করে অন্তত জ্ঞান দান করা চলে না। এটি কেবল বুঝে আত্মস্থ করার বিষয় এবং এর রয়েছে সুনির্দিষ্ট একটি পদ্ধতি তথা প্রক্রিয়া। যা কার্যকর করতে প্রয়োজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক। তাই কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ একদল অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সাথে নিয়ে মেধাভিত্তিক মানবীয় গুণাবলি অর্জনের শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নোট ও সাজেশন নির্ভর পড়াশোনাকে অনুত্সাহিত করছে আনন্দদায়ক উপায়ে পড়াশোনার মধ্য দিয়ে। পড়াশোনায় নিয়মিত হতে এখানে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার মানসিক বা শারীরিক শাস্তির বিধান না থাকলেও আছে; বাধ্যতামূলক সাপ্তাহিক, টার্ম, বার্ষিক, প্রাক নির্বাচনী, নির্বাচনী পরীক্ষা, মডেল টেস্ট ও সারপ্রাইজ টেস্টসহ মোট ২৩৪টি টেস্ট পরীক্ষা। বিশেষ করে এখানে পাঠ পরিকল্পনা করা হয়েছে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের নির্ধারিত সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাস্তব ও নিখুঁতভাবে। একই সাথে প্রতিটি পাঠ্য বিষয়কে সহজবোধ্য ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে লেকচারশিট প্রদান করা হয় এবং বোর্ড প্রদত্ত সিলেবাসকে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরকে তিনভাগে ভাগ করে টার্ম অনুযায়ী প্রতিদিনের ক্লাস পরিচালিত হয়। কোনো বিষয়ে পাঠদানের পূর্বেই এখানে শিক্ষার্থীদের ‘এ’ প্লাস পাওয়ার উপযোগী প্রশ্নব্যাংক ও সমাধান দেওয়া হয়। এখানে ক্লাস নেওয়া হয় প্রজেক্টর ও কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :প্লট-৮৩৬, রোড-২, আদাবর বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। ফোন :৮১৫০৮৬০, ৮১২৬৯১১, ০১৭২৭০১১৮৩৮। নির্ধারিত ক্লাস ছাড়াও এখানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে পাঠদানের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাইভেট টিচিংয়ের বিকল্প এই ব্যবস্থায় মেধাবী শিক্ষার্থীরাও বাড়তি সুযোগ গ্রহণ করে উপকৃত হতে পারে। এসব ব্যবস্থার ফলে কাউকে আর প্রাইভেট শিক্ষকদের দারস্থ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এখানে কর্মরত আছেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ একদল শিক্ষকবৃন্দ, আছে শিক্ষার আধুনিক সব উপকরণ, চমত্কার পাঠদান পদ্ধতি, উন্নত লেকচার শিট এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতা। মোহাম্মদপুর আদাবরের মূল এভিনিউ ঘেষা কুইন্স কলেজের বিশাল ভবনটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। বিজ্ঞান শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পদার্থ, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান বিষয়ের আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরিসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশ ও চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে বছরান্তে এখানে আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর শিক্ষা সফর, বার্ষিক বনভোজন এবং পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয় ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে। বিশিষ্ট শিক্ষা উদ্যোক্তা ড. খন্দকার ফজলুল হুদা কুইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। ভিসা ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুল অ্যান্ড কলেজটি ইতোমধ্যেই অভিভাবকদের দৃষ্টি কেড়েছে তাদের ব্যতিক্রমী বিভিন্ন শিক্ষাদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।