কলকাতার নারী পাচারকারীর খপ্পরে কুমিল্লার এক তরুণী

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২১:০৬
মোবাইলে প্রেমের ফাঁদে কলকাতার নারী পাচারকারীর খপ্পরে পড়েছে বাংলাদেশের কুমিল্লার এক শিক্ষিতা সুন্দরী যুবতী। নিজের উপস্থিত বুদ্ধি বলে মহা সর্বনাশের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই যুবতী। বৃহস্পতিবার কলকাতার বর্তমান পত্রিকা এ খবর দিয়েছে। প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতার হাওড়া স্টেশনে নিয়ে গিয়েছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নারী পাচারকারী সাইফুল ইসলাম। তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সাইফুলের বাড়ি কলকাতা শহরতলির বারাসাতের মেঠোপাড়ায়। পত্রিকার খবরে জানা যায়, মোবাইল ফোনে দু’বছর ধরে সাইফুলের প্রেম চলছিল কুমিল্লার ওই যুবতীর। নারী পাচারকারী সাইফুল এক পর্যায়ে ঘর বাঁধার প্রলোভন দেয় বাংলাদেশি যুবতীকে। বাড়ির কাউকে না জানিয়ে বাংলাদেশি ২৩ বছর বয়সী যুবতী পাসপোর্ট ভিসা করে। মঙ্গলবার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যায় সে। এরপর প্রতারক প্রেমিকের নিদের্শিত পথ ধরে কলকাতার হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে যায়। আগে কেউ কাউকে দেখেনি। পোশাকের বিবরণ দেখে একে অপরকে চিনে। প্রেমিককে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় বাংলাদেশি প্রেমিকা। ঘন্টা খানেকের মধ্যে সে বুঝতে পারে তার জীবনের কি করুণ পরিণতি হতে যাচ্ছে। খলনায়ক প্রেমিক আসলে একজন নারী পাচারকারী। তার স্ত্রী, ভাইসহ আরো অনেকে আছে। সে বাড়িতে না নিয়ে মুম্বাই যাওয়ার কথা বলে। তখন সন্দেহ আরো গভীর হয় বাংলাদেশি যুবতীর। ইতিমধ্যে প্রতারক সাইফুলের এক বন্ধু মুম্বাইগামী ট্রেনের ৩টি টিকিট নিয়ে হাজির হয়। সাইফুল ও তার বন্ধুর মধ্যে কথাবার্তায় বুঝতে বাকি থাকে না সে নারী পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে। বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে হাওড়া জিআরপি থানায় সোজা চলে যায় যুবতী। সব ঘটনা খুলে বলে। দু’জন সাদা পোশাকের পুলিশকে সাথে নিয়ে গিয়ে সাইফুলকে ধরিয়ে দেয়। হাওড়া জিআরপি থানার আইসি অশোক দত্ত সেখানকার সাংবাদিকদের বলেন, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশি ওই যুবতীর বাড়িতে খবর পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেয়েটিকে বাংলাদেশের পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।