ব্যাঙের নাম ‘উপকূল’!

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২২:৪৫
প্রায় দেড়শ’ বছর ধরে প্রকৃতিতে বিদ্যমান ব্যাঙের নতুন একটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ড. মাহমুদুল হাসান। শুধু তাই নয়, ব্যাঙটির জীবন রহস্যও উদঘাটন করেছেন তিনি। ব্যাঙটির নামকরণ করা হয়েছে ‘লিটোরালিস’; যার অর্থ ‘উপকূল’। এটি কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা টেকনাফ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ওই নাম দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রাণীবিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘জুটাক্সা’য় ড. হাসানের এই গবেষণার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের গ্রাজুয়েট ড. মাহমুদুল হাসান বর্তমানে জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অফ এম্পিবিয়ান বায়োলজি’তে গবেষক হিসেবে কর্মরত। ওই গবেষণার ফলাফল এবং আবিষ্কৃত ব্যাঙ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ করে খামারিরা অর্থনৈতিক-ভাবে লাভবান হতে পারবেন বলে দাবি করেছেন ড. হাসান। এই গবেষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ব্যাঙ জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার এবং বন-জঙ্গল উজাড় করায় প্রতিনিয়ত জীববৈচিত্র্য রক্ষাকারী ব্যাঙের বাসস্থান এবং প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বিলুপ্তির হাত থেকে ব্যাঙকে রক্ষা করতে বাংলাদেশে দৃশ্যত কোন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। অন্যদিকে আমাদের পরিবেশে কত প্রজাতির ব্যাঙ রয়েছে তারও কোন সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। ব্যাঙ সম্পর্কে নেই কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এই উপলব্ধি থেকে ২০০৬ সালে জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করে বাংলাদেশের মোট ব্যাঙের প্রজাতি নির্ণয় এবং তাদের জীবন রহস্যের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করেন ড. হাসান। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে দেশের ১৪টি জেলার ১৮টি স্থান থেকে জীবিত এবং মৃত প্রায় ১০০টি ব্যাঙ সংগ্রহ করে ‘ইনস্টিটিউট অফ এম্পিবিয়ান বায়োলজি’ গবেষণাগারে ব্যাঙের বংশগতি ধারকের (ডিএনএ) পদ্ধতিগত অনুবীক্ষণিক বিশ্লেষণ, জীবন রহস্য উন্মোচন এবং ডাকের শব্দ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ৪৩ প্রজাতির ব্যাঙের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয়েছে। যার মধ্যে ৮টি অনাবিষ্কৃত প্রজাতি (ক্রিপটিক) ছিল। গবেষণার সেই ধারাবাহিকতায় তিনি সেই ৮টি নতুন আবিষ্কৃত ব্যাঙ থেকে ১টি ব্যাঙের বৈজ্ঞানিক জীবনরহস্য উন্মোচন এবং ডাকের শব্দ বিশ্লেষণ করে অন্যান্যর সাথে তুলনা করে নতুন প্রজাতি বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যাঙ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ৬ মাস যাচাই বাছাই করে ড. হাসানের দাবি মেনে নেন এবং ব্যাঙটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেন। যা বাংলাদেশের জন্য বিরল এক সাফল্য। এখন নতুন এই ব্যাঙটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের উদ্যোগ নিলে খামারিরা উপকৃত হতে পারেন বলে জানান ড.মাহমুদুল হাসান।