প্রতিদিন খাবার তালিকায় মাছ বা মাংস না হলে যাদের মন ভরে না তাদের জন্য কিছুটা খারাপ খবরই বলতে হবে। কারণ রসনার জন্য যতই তৃপ্তিদায়ক আর উপাদেয়ই হোক না কেন দীর্ঘ জীবন লাভের ক্ষেত্রে মত্স্য বা মাংসভুক মানুষদের চাইতে অনেকটাই এগিয়ে আছেন নেহাত সবজি বা নানা ধরনের নিরামিষভোজী মানুষেরা। নানা সময়ে নিরামিষভোজীরা তাদের এই দীর্ঘায়ু প্রাপ্তি নিয়ে দাবি জানালেও এবার রীতিমতো বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেই সত্যতা মিলেছে নিরামিষভোজীদের এই দাবির। শুধু তাই নয়, দীর্ঘায়ু লাভ বা বেশিদিন বেঁচে থাকার এই ধারণাটি সম্পর্কে এই প্রথম সুস্পষ্ট একটি সময়ের কথাও উল্লে¬খ করেছেন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা চালানো ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাদের দাবি, আমিষাশীদের চেয়ে নিরামিষভোজীদের বেশিদিন বেঁচে থাকার হার শতকরা ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। গবেষণা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিশাল নমুনা নিয়ে কাজ করেন এবং তারা নানা সময়ে প্রায় সত্তর হাজার মানুষের খাদ্যাভ্যাস, মৃত্যু ও সুস্থতার তথ্য সংগ্রহ করেন। আর ছয় বছর ধরে সংগৃহীত এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গবেষণা চলাকালীন সময়ে সবমিলিয়ে যে ২,৫৭০ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে (কোনো ধরনের মহামারী রোগ বা দুর্ঘটনা ছাড়া) তাদের মধ্যে কম বয়সে মারা যাওয়া লোকেদের সিংহভাগই ছিলেন আমিষভোজী। অন্যদিকে একটু বেশি বয়সেও যারা দিব্যি সুস্থ আছেন তাদের মধ্যে আবার নিরামিষভোজীদের উপস্থিতিই বেশি। আর এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই গবেষক ড. মিশেল অরলিক জানান, আমিষ জাতীয় খাদ্য খেলে উচ্চ রক্তচাপ, বিপাক, ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা বেশি হয় বলেই হয়তো এ ধরনের মানুষের আয়ু তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে নিরামিষাশীরা অ্যালকোহল ও ধূমপানে কম আসক্ত হন এবং তুলনামূলক বেশিক্ষণ ব্যায়াম করেন বলেও জরিপে উল্লে¬খ করা হয়েছে যা পক্ষান্তরে তাদেরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে থাকতে পারে।
