সরকারি হিসেবেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মহিলা কমিশন বলছে, নারী নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যা এই সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি। ভারতের জাতীয় অপরাধ ব্যুরো সর্বশেষ যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে তাতে দেখা যাচ্ছে, নারী নির্যাতনের দিক থেকে শীর্ষে আছে পশ্চিমবঙ্গ। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের মহিলা কমিশনের প্রধান সুনন্দা মুখার্জী বলছেন, নারী নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যাটা আরো বেশি। বহু ঘটনা পুলিশের কাছে পৌঁছায় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের অভিযোগও নিতে চায় না পুলিশ। সুনন্দা মুখার্জী বিবিসিকে বলেন, “আমি মনে করি, মহিলাদের ওপরে অপরাধের যা রেকর্ড হয়েছে, তার থেকেও বেশি সংখ্যায় মহিলারা নির্যাতিতা হচ্ছেন। মহিলা কমিশনের এই বক্তব্যের আগে, পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পরে এমনিতেই বিব্রত রাজ্য সরকার। একদিকে বিরোধী দল, অন্যদিকে মহিলা সংগঠনগুলো কড়া সমালোচনা করছে রাজ্য সরকারের। রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক নপরাজিত মুখার্জী এক সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য দাবী করেছেন, “জঘন্যতম অপরাধ বলে যেটাকে ধরা হয় সেই ধর্ষণ এবারে পশ্চিমবঙ্গে অনেক কমে গেছে। ২০১২ তে ১৯৭৮টি, ২০১১ সালে ২৩১৭টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যেখানে ২০১২ সালে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১৯৭৮ টিতে। জাতীয় অপরাধ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের সঙ্গে আমাদের তথ্যের এটা একটা অমিল।”
পুলিশ প্রধানের দাবী, তারা বেশ কয়েকটি তথ্যের ভুল তুলে ধরেছিলেন এবং সেগুলির ক্ষেত্রে রাজ্যের ভিন্ন মত প্রকাশ করতে বলেছিলেন। কিন্তু মি. মুখার্জীর কথায়, “ এনসিআরবি-র পরিচালককে লিখিতভাবে জানানোর পরেও সেই ডিসক্লেমারগুলো ছাপতে তারা অস্বীকার করে।” ভারতে মহিলাদের ওপরে অপরাধের যত ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে প্রায় ১৩% পশ্চিমবঙ্গে। শুধু ধর্ষণের অপরাধের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
