দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, আমাদের প্রিয় রাজধানী ঢাকা ক্রমেই বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। একে বাঁচাতে পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানা অবশ্যই ঢাকার বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। ক্রমবর্ধমান অপরিকল্পিত নগরায়ণে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি সময় মতো এ বিষয়ে নজর না দেয়, তাহলে নগরবাসীর সামনে রানা প্লাজা ধসের মতো আরো ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। এমনকি নিকট ভবিষ্যতে ঢাকা একটি পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার আগারগাঁয়ে এলজিইডি ভবনে ‘বাংলাদেশ:দ্য পাথ টু মিডল-ইনকাম স্টাট্যাস ফ্রম অ্যান আরবান পারস্পেক্টিভ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। তাদের মতে, সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডি অপরিকল্পিত নগরায়ণেরই ফল। তাই সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। আর সুশাসনের জন্য নগরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকাও জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ওই গ্রন্থটির রচয়িতা এলিসা মুজিনি ও গ্যাব্রিয়েলা এপারিসিও। ‘বাংলাদেশ আরবান ইনস্টিটিউট-বিইউআরআই’, ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন সেন্টার-পিপিআরসি’ এবং বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সালমান জাইদি, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হক, মাল্টিমোড গ্রুপের সিইও আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সময় এসেছে ধারণা পরিবর্তনের। মারাত্মক অপরিকল্পিত নগরায়ণের প্রভাবে ঢাকা এখন নানা সমস্যার সম্মুখীন। নগরের অধিবাসীরা প্রতিনিয়ত বাসস্থান, পানি, বিদ্যুত্, গ্যাস ও যানজটের মতো নানা নাগরিক সমস্যার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। তারা বলেন, শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা নগরের স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধাগুলোও ভোগ করতে পারছেন না। চরম সামাজিক বৈষম্য বিরাজ করছে। তাই অবিলম্বে রাজধানীতে পাবলিক পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি, প্রাইভেটকার নিরুত্সাহিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, মধ্যবিত্তদের জন্য সব সুবিধা নাগালের মধ্যে আনা, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ এবং ঢাকার বাইরে সব ধরনের কারখানা সরিয়ে নেয়া জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
