ঝিনাইদহ জেলার স্কুল-কলেজের লাইব্রেরি গুলোর খুবই দৈন্যদশা চলছে। কোথাও বই আছে পাঠক নেই। আবার কোথাও লাইব্রেরি রুম ও রিডিং রুম নেই। লাইব্রেরি শিক্ষক আছেন। কাজ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্কুল-কলেজের সরকারি অনুমোদন পেতে হলে শর্ত আছে লাইব্রেরি রুম ও কমপক্ষে দু’ হাজার বই থাকতে হবে। সে সাথে থাকতে হবে রিডিং রুম। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলাতে ৬২টি কলেজ, ৩৮২টি মাধ্যমিক স্কুল ও ২৮টি নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল আছে। সরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে পৃথক লাইব্রেরি ও প্রচুর বই আছে। কিন্তু বইয়ের পাঠক নেই। শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রী কলেজের লাইব্রেরিতে ৮ হাজার বই আছে। কিন্তু এসব বইয়ের পাঠক নেই। ২০১২ সালে মানবিক বিভাগের মাত্র ৪ জন ছাত্রছাত্রী লাইব্রেরি থেকে বই নিয়েছে। চলতি বছরের ৬ মাস পার হতে চললেও কেউ লাইব্রেরিতে আসেনি। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন লাইব্রেরিয়ান নেই। ওয়ার্ক চার্জের একজন পিয়ন লাইব্রেরি দেখভাল করেন। ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের লাইব্রেরিতে প্রায় ২০ হাজার বই আছে। অনার্স মাস্টারর্স কোর্স পড়ানো হয় এখানে। কিন্তু লাইব্রেরিতে পাঠক খুবই নগণ্য সংখ্যক। এ স্কুলের নিজস্ব লাইব্রেরি নেই। শিক্ষক কমন রুমের এক কোনে ও অপর একটি নোংরা ভরা রুমে লাইব্রেরির কাজ চলে। লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মখলেসুর রহমান বলেন, ছাত্ররা বই পড়তে বা বই নিতে লাইব্রেরিতে আসে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর লাইব্রেরির বেহাল দশা। লাইব্রেরিতে এমন অনেক বই আছে, যা পাঠকের হাতের ছোঁয়া লাগেনি।
