চাঁদপুরে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ২১:৩৮
অন্যান্য সময়ের চাইতে বর্ষাকালে নৌ-পথে দুর্ঘটনার ঝুঁকির মাত্রা আরো তীব্র হয়। এক বেসরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ৩০ বছরে দেশে পাঁচ শতাধিক নৌযান দুর্ঘটনায় সাড়ে ৮ হাজার যাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছে ৫ শতাধিক। পঙ্গুত্ববরণ করেছে বহু ব্যক্তি। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরের নৌসীমানায়। এসব দুর্ঘটনায় চাঁদপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, ভোলা, বরিশাল, মতলব ইত্যাদি এলাকায় প্রায় ৪ হাজার যাত্রী প্রাণ হারায়। সর্বশেষ বি-বাড়িয়ার রাজাপুর গ্রামে মেঘনায় যাত্রীবাহী লঞ্চ বিপাশা এবং ঢাকার নারায়ণগঞ্জ-মতলবগামী সারস লঞ্চটি মেঘনায় নিমজ্জিত হলে ৬০ জন যাত্রী মারা যায়। এতো দুর্ঘটনার পরেও যাত্রীবাহী লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি মালামাল লঞ্চের খোলের ভেতর, ছাদে ও মেঝেতে বহন করা হচ্ছে। এদিকে দেশে কোনো নৌযান দুর্ঘটনার শিকার হলে তা উত্তোলন করার জন্য একমাত্র ভরসা ছিল উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা ও রুস্তম’। নতুন করে যোগ হয়েছে ‘হাতি’। কিন্তু এই ৩টি জাহাজের একটিরও ৬০ টনের বেশি ধারণা ক্ষমতা নেই। তার উপর হামজা ও রুস্তম বয়সের ভারে অনেকটা কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। অথচ বর্তমানে দেশে ৩-৪ তলাবিশিষ্ট যে সকল যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে তার প্রতিটি ওজন ১২০ টন এবং আরো বেশি। ফলে একটি লঞ্চ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার পর তা উত্তোলন করতে স্বাভাবিকভাবে অনেক সময় লেগে যায়। কয়েকজন লঞ্চ মালিক জানান, নৌদুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। নৌপথে প্রয়োজনীয় বয়া, বিকন বাতি ও মার্ক নেই। দিনে নৌপথে চলাচল করা গেলেও রাতে অনেকটা আন্দাজের উপর নৌযান চালাতে হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় না। স্থানীয় বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, দেশের কোন পোর্ট অফিসারকে লঞ্চ ও নৌযান হতে জরিমানা আদায় বা দোষী লঞ্চের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক বিচারকাজ পরিচালনা করার ক্ষমতা দেয়া হয়নি। তারা শুধুমাত্র মামলা গ্রহণ করে তার ধারা উল্লেখ করে মেরিন কোর্টে পাঠিয়ে দেন এবং মেরিন কোর্টে দোষী লঞ্চ ও সারেং-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অথচ দেশে একটিমাত্র মেরিন কোর্ট রয়েছে তাও ঢাকায়।