সময়কে নষ্ট না করে কাজে লাগান

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:২৯
সোমার বয়স একত্রিশ হতে চলল। আজকে তার জন্মদিন। নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে ওর মনে হচ্ছে এভাবে আর কতদিন ? বিশ বছর বয়সে তার সংসার জীবনে প্রবেশ। তাদের তিনজনের পরিবার। মেয়ের বয়স আট। সংসার জীবন চালাতে গিয়ে পড়াশোনা আর হয়ে ওঠেনি। সারাদিন কাটে কখন স্বামী বাড়ি আসবে, তার সেবা করবে সে অপেক্ষায়। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে গল্প-আড্ডায় আর বাড়িতে বসে মেয়েকে পড়াতে পড়াতেই তার জীবন পাড় হয়ে যাচ্ছে। পাশের বাড়ির মেয়েটি রোজ সকালে অফিসে চলে যাচ্ছে সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে, তো সন্ধ্যায় এসে বাচ্চাকে পড়ানোসহ সব কাজই করছে। তার মনে হয় সেও কি নিজের ইচ্ছামত কাজ করে জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে না? নিজ টাকায় চলার স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না? তার মন চাইলেও সে মেয়েটির জন্য কোন খেলনা কিনতে পারে না, কারণ তার জন্যও তার স্বামীর কাছে হাত পাততে হবে। সে কি কখনোই তার এই পরনির্ভরশীলতা দূর করতে পারবে না? তার নতুন করে জীবন শুরু করার সময় সে মনের স্বপ্ন মনেই চেপে রাখে। জীবনে কখনোই হাল ছেড়ে দেবার কিছু নেই। যে কোন সময় নতুনভাবে জীবনকে শুরু করা সম্ভব। তাই সময়কে অযথা নষ্ট না করে তা কাজে লাগাতে হবে। নতুন করে জীবন শুরু করার ভয়ে ভীত হবার কিছু নেই । আমাদের সমাজে আক্ষরিক অর্থে প্রচলিত শিক্ষজীবন শেষ হওয়া মানেই সে জীবনের সমাপ্তি নয়। যেকোন সময় জীবনযুদ্ধে নেমে মনের অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করা সম্ভব। যেমনটি রিনা করছে। রিনার বিয়ে হয়ে যায় এইচ এস সি পাসের পরপরই। বিয়ের এক বছর পরই তার বাচ্চা হয়। সে এক মেয়ের পর আর কোন সন্তান নেয়নি। এরপর সন্তানের জন্য পাঁচ-ছয় বছর পড়াশোনা বন্ধ রাখে। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে সে ও তার শিক্ষা জীবন শুরু করে। ইডেন কলেজ থেকে সে নিউট্রিশনে তার অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে। বর্তমানে এক এনজিওতে কর্মরত আছে, আবার পাশাপাশি কম্পিউটারের ওপর ডিপ্লোমা কোর্সও করছে। তার আধুনিক জ্ঞানকে আয়ত্ত করার প্রবণতা এবং আন্তরিক চেষ্টা তাকে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। একইসঙ্গে সে তার মেয়ে প্রমার নিত্যদিনের খেলার সঙ্গী। মেয়েকে পূর্ণ সময় দিতেও সক্ষম। তার মানসিক জোর ও সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার পারদর্শিতা তাকে আজ এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তাই আমাদের জীবনে এগিয়ে যেতে হলে মানসিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। কিছু সময় যেমন নিজ সংসার ও পরিবারের জন্য রাখতে হবে, তেমনি কিছু সময় নিজের জন্যও রাখতে হবে। না হলে পরনির্ভরশীলতা জীবনে এনে দিবে হতাশা। শিক্ষাজীবনের কোন বয়স নেই। যে কোন সময় একজন নারী যেমন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরুর মধ্যে দিয়ে আর দশজন নারীর জীবন গড়তে পারে, তেমনি আবার ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে ঘরে বসে আয়ও করতে পারে। বর্তমানে নানা জায়গায় ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে লেখালেখি করেও অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। তাতে খুব বেশি ট্রেনিং নেবারও প্রয়োজন পড়ে না। তাই অজানাকে ভয় না পেয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ঘরে বসে বসে সময় বৃথা নষ্ট না করে কাজে লাগাতে হবে। অনেক সময় সংসারে অফিসের চিন্তা ও আর অফিসে সংসারের চিন্তায় কোন কাজই ঠিকমত করা হয়ে ওঠে না। সব কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সারা সপ্তাহের কাজের পরিকল্পনা সপ্তাহের শুরুতেই করতে হবে। সারা সপ্তাহের শেষের জন্য কাজ ফেলে রাখলে চলবে না। সময়ের কাজ সময়ে করলে সব দিক সামলাতে আর সমস্যা হবে না। যে কোন কাজ করার ক্ষেত্রে সে দিকেই পূর্ণ মনোনিবেশ করতে হবে। সাংসারিক কাজের চাপে কিছুদিনের জন্য কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবন ব্যাহত হতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে, তা কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ডেকে আনবে। তাই হাল না ছেড়ে যে কোনদিন নতুন জীবনের পরিকল্পনা করে তা শুরু করার মধ্যে দিয়ে জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।