আবারও রাণি সেরেনা

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:৩০
সেরেনার বুলেট গতির সার্ভ। মারিয়া শারাপোভা র্যাকেটই ছোঁয়াতে পারলেন না। সঙ্গে সঙ্গেই উল্টো হয়ে বসার ভঙ্গিতে সেরেনা তাকালেন আকাশের দিকে। তবে আকাশটা তিনি ঠিক দেখতে পেরেছেন কি না বলা মুশকিল। কারণ, জয়ের আনন্দে দুই হাতে নিজেই ঢেকে রেখেছেন মুখ। ওই এইসের মাধ্যমে পাওয়া পয়েন্টই নিশ্চিত করে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। সেরেনার ১১ বছরের অপেক্ষা শেষ। মুহূর্তেই আকাশের দিক থেকে মুখ নামিয়ে চুমু এঁকে দিলেন রোলাঁ গারোঁর লাল দুর্গে। এরপর প্রতিপক্ষের সঙ্গে অভিনন্দন বিনিময়, দর্শকদের দিকে চুমু ছোড়া, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানো। এরপর শিরোপা জিতলেই সেরেনা উইলিয়ামস বাচ্চাদের মতো আনন্দে নাচানাচি-লাফালাফি শুরু করে দেন। প্যারিসে এই মার্কিন তারকা একমাত্র শিরোপাটি জিতেছিলেন ২০০২ সালে। ১১ বছরের অপেক্ষার পর কাল শারাপোভাকে হারিয়ে এল দ্বিতীয়টি। শুরুতে শারাপোভা জিতে নেন প্রথম দুটি গেমই। কিন্তু তারপরই শুরু হলো সেরেনার রাজত্ব। ৬-৪, ৬-৪ গেমে জিতে সেরেনা গড়লেন উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়েসে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের রেকর্ড। পেছনে ফেললেন ১৯৮৬ সালে ৩১ বছর পাঁচ মাস বয়েসে জেতা স্বদেশী ক্রিস এভার্টকে। সেরেনা জিতলেন ৩১ বছর আট মাস বয়েসে। সব মিলিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনে তার চেয়ে বেশি বয়সে শিরোপা জিতেছেন আর একজনই। ১৯৫৮ সালে জসুসা কারমোজি জিতেছিলেন ৩৩ বছর বয়সে। সেরেনা মোট ২৫ টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেনঃ ১২টি একক, ১১টি মহিলা দ্বৈত, ২টি মিশ্র দ্বৈত। এছাড়া তিনি মহিলা দ্বৈতে ২ বার অলিম্পিক স্বর্ণ পদক লাভ করেছেন। বর্তমানে সক্রিয় যে কোন মহিলা খেলোয়াড়ের চেয়ে তিনি বেশি সংখ্যক গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন এবং টেনিস ইতিহাসে যে কোন মহিলা খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি প্রাইজমানি অর্জন করেছেন।