বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, ব্যবসার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও সীমান্ত চোরাচালান বন্ধের জন্য বর্তমান সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে চালু হয় সীমান্ত হাট। কিন্তু নানাবিধ বাধার কারণে সে আশা ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
২০১১ সালের ২৩ জুলাই হাট উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের তত্কালীন বাণিজ্য মন্ত্রী লে.কর্নেল (অবঃ) ফারুক খান এবং ভারতের কেন্দ ীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আনন্দ শর্মা। কড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কালাইর চর সীমান্তে নোম্যান্সল্যান্ডে হাটটির অবস্থান।
সপ্তাহে প্রতি বুধবার বাংলাদেশের ২৫জন ও ভারতীয় ২৫জন বিক্রেতা তাদের পণ্য নিয়ে এবং উভয় দেশের ক্রেতারা হাটে গিয়ে তাদের কাছ থেকে পছন্দের পণ্য কিনে থাকে।
সীমান্ত হাটে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রির চেয়ে ভারতীয় পণ্যের বিক্রি বেশি বলে জানান বিক্রেতারা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও কাস্টম কর্তৃপক্ষের বিধি-নিষেধের কারণে ভারতীয় ক্রেতারা বাংলাদেশি পণ্য কিনতে পারছে না। পণ্য কিনলেও ভারতীয় কাস্টম তা ফেরত দেয় বা নিয়ে যেতে দেয় না। বাংলাদেশি পণ্য কিনতে না পারায় ভারতের ক্রেতা এবং বাংলাদেশি বিক্রেতারা হতাশ। এছাড়াও বাংলাদেশি পণ্য কিনতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নানাভাবে হযরানি করে।
বাংলাদেশি বিক্রেতা আব্দুস সামাদ বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কারণে আমরা হাটে পণ্য বিক্রি করে সুবিধা করতে পারছি না। আমাদের পণ্য ভারতীয়রা কিনলে গেট থেকে ফেরত দেয়া হয়। যার কারণে অনেকেই দোকান করাই ছেড়ে দিয়েছে। ভাতীয় ক্রেতা মহুমা কোচ ও বুদ্ধিস মারাক একই কথা বলেন । বাংলাদেশি আরেক বিক্রেতা মাজেদা খাতুন বলেন, আমি শাড়ী, লুঙ্গী কাপড়ের দোকান দিয়েছি। আমাদের কাছ থেকে কোনকিছু কিনলে ভারতীয় কাস্টম ও বিএসএফ ঝামেলা করে। তাই ইচ্ছা থাকলেও ভারতীয়রা আমাদের কাছ থেকে পছন্দের পণ্য কিনতে পারে না।
সীমান্ত হাটকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশি ক্রেতা মাইদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় পণ্য আসার সাথে সাথেই বাংলাদেশি সিন্ডিকেট সব পণ্য একেবারে কিনে নেয়, যার কারণে বাংলাদেশি খুচরা ক্রেতারা কোন পণ্য কিনতে পারছে না।
