কুড়িগ্রামের নদ-নদীর ইতিকথা ও নাব্যতা সংকট

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:৪০
নাব্যতা সংকটে কুড়িগ্রামের ১৭টি নদনদী। যা এ জেলার ২০ হাজার ৪১৭ হেক্টর জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খরসে াতা এ নদীগুলো ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। দু’পাশে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ বালুচর। এরকম চরের সংখ্যা ৪০৫টি। প্রভাব পড়েছে কৃষি, জলবায়ু, ঋতু ও জীববৈচিত্র্য, নৌযোগাযোগ এবং মানুষের জীবন-জীবিকায়। ফলে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে মানুষের পেশা ও পথঘাট। অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন লুব কাটিং করে গতিপথ সোজা করার পাশাপাশি ড্রেজিং এর মাধ্যমে গভীরতা বৃদ্ধি করা। ভারতের কুচবিহার জেলায় প্রবাহিত কালজানি নদী বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলকুড়ি ইউনিয়নের শালজোড় গ্রামে এসে সংকোষ নাম ধারণ করে। আরো দক্ষিণে এসে সোনাহাট ব্রীজের দক্ষিণে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের বারৈইটারী মৌজার দক্ষিণে দুধকুমার নাম ধারণ করে। সে নামে দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, বল্লভেরখাস ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারীর উপর দিয়ে প্রবাহিত এ নদ অগভীর, খরস্রোতা ও আঁকাবাঁকা। শুকনো মৌসুমে শান্ত ও শীর্ণকায়। বর্ষায় অশান্ত। প্রকৃতিতে ধ্বংসযোগ্য চালায়। প্রতিবছর শিকার বানিয়ে গিলে খাচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। অসংখ্য মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব, রিক্ত ও অসহায়। অনেক আবাদী জমি হয়ে গেছে অনাবাদী। বাস্তুভিটা হারিয়ে অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে চলে গেছে অন্যত্র। প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে বামনডাঙ্গা, রায়গঞ্জ, কেদার, বেরুবাড়ী, বল্লভেরখাস ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মানচিত্র। ভাঙ্গনে নি:স্ব এ ইউনিয়নের মানুষগুলো দরিদ্র থেকে হচ্ছে অতিদরিদ্র। বর্ষাউত্তর এর দু’পাশে জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ চর । নানাবিধ কারণে ঐতিহ্য হারাচ্ছে দুধকুমার নদ। আঁকাবাঁকা ও দীর্ঘ সময় পলি জমে গভীরতা কমে গিয়ে খরস্রোতা হওয়ায় বর্ষায় ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি তলানিতে নতুন করে পলি জমে নাব্যতা কমে যাচ্ছে। নাব্যতা সংকটে কালের বিবর্তনে ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী পাঁচমাতা মাল ঘাট। একসময় পাঁচমাতা থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী পর্যন্ত নৌ-যোগাযোগ ছিল। স্বাধীনতার আগে এ নৌপথে ভারত থেকে আসত ছোটবড় জাহাজ ও সওদাগরী নৌকা। প্রতিবছর জেগে ওঠে ছোট বড় অসংখ্য বালুচর। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা ডিনামাইড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সোনাহাট ব্রীজের পাচটি স্প্যান ধ্বংস করে দেয়। সেগুলো নদের মাঝে পড়ে স্বাভাবিক স্রোতধারায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিনে সেগুলো নষ্ট না হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ৪২ বছর ধরে এর উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে নিচে মাটি জমে ভরাট হচ্ছে। এটি ক্রমে অগ্রসর হচ্ছে। হারাচ্ছে এ নদ তার চির চেনা রূপ।