কুড়িগ্রামের সম্ভাবনাময় সোনাহাট স্থলবন্দর

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:৪০
পরিচিতি- কুড়িগ্রাম জেলা থেকে ৩৮ কিলোমিটার উত্তরে তিনদিকে ভারতীয় সীমান্ত বেষ্টিত উপজেলা হচ্ছে ভুরুঙ্গামারী। ভুরুঙ্গামারী সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে সোনাহাট স্থল বন্দরের অবস্থান। এর মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে দুধকুমার নদ । যা মিশেছে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে। সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে এ নদীবন্দর যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে। পূর্ব ইতিহাস- জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের বর্তমানে ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলে খ্যাত আসাম, অরুণাচল, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, মনিপুর ও মেঘালয় রাজ্যের সাথে ভারতের দঃপূর্ব এলাকার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এ রেলপথের ১২ কিলোমিটার ছিল বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলা অংশে। সোনাহাট রেলওয়ে স্টেশন ছিল সেভেন সিস্টার্সে প্রবেশ দ্বার। কারণ এটি আসাম-বাংলার জিরো পয়েন্টে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির আক্রমণ প্রতিহত করতে ’৪৫ সালে রেলপথের পাশাপাশি নির্মিত হয় মিলিটারী এ্যাক্সেস রোড। এলাকার জনগণের কাছে যা মিলিটারী রোড নামেই পরিচিত। দিল্লি থেকে মনিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথ দিয়ে অবিরামভাবে চলত মিলিটারী কনভয়। জন-সংখ্যার স্বল্পতা হেতু চলমান রেলপথই ছিল যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। সড়কপথ জুড়ে শুধুই কনভয় চলত। ‘৪৭-র দেশ বিভাগের পর ৭/৮ বছর পর্যন্ত সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভুরুঙ্গামারী এলাকার ১২ কিলোমিটারের উপর দিয়ে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে ও চেকপোস্ট এবং ইমিগ্রেশন চালু ছিল। ঐ বছর এক প্রবল বন্যায় ভারতের ৩টি রেল সেতু বিদ্ধস্ত হওয়াসহ অন্যান্য ক্ষতির কারণে তখন থেকে ওই রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। - আনোয়ারুল হক