লাল মাটির রাজপুত্র

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:৪৮
৯ জুন রবিবার ছিল ফরাসি ওপেনে পুরুষদের সিঙ্গলসে নতুন ইতিহাস রচনা করার দিন। মাঠে নামলেন দুই ফাইনালিস্ট, রাফায়েল নাদাল আর নোভাক জোকোভিচ। টেনিসবিশ্বের এই দুই সেরা তারকার সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। টেনিসের ৪৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পরপর চারটি গ্র্যান্ডস্লাম জেতার সুযোগ সার্বিয়ান নোভাকের সামনে। অন্যদিকে অস্টমবারের জন্য ফরাসি ওপেন জেতার সুযোগ নাদালের সামনে। এবারের ফরাসি ওপেনে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা। রোলাগাঁরোয় একটিও সেট হারাননি নাদাল। ফরাসি ওপেনে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচ হেরেছেন তিনি। ফলে বলাই বাহুল্য, ফর্মের চূড়া থেকে মেগা ফাইনাল জেতার জন্য খেলতে নামলেন নাদাল। তবে গত বছরের উইম্বলডন, ইউএস ওপেন আর এ বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন—তিনটি গ্র্যান্ডস্লাম ফাইনালেই জোকোভিচের কাছে হারতে হয়েছিল নাদালকে। এবার তাই সার্বিয়ান তারকাকে হারিয়ে বদলার সুযোগ স্প্যানিশ তারকার সামনে। আর শেষ হাসিটাও হাসলেন তিনি। কোনো রকম সুযোগই দিলেন না অপরজনকে। ক্লে কোর্ট নিজের দখলে নিয়ে নিলেন অষ্টমবারের মতো। টেনিসের উন্মুক্ত যুগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৮ বার ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জিতে নতুন রেকর্ডের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ক্লে কোর্টের রাজা রাফায়েল নাদাল। গেল কয়েকদিনের টানা পরিশ্রম, অথচ বিশ্রামের কথাও যেন ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। ইতিহাসের পর ইতিহাস গড়ার এই আনন্দ ভক্তদের সাথে উদযাপন করতে ছুটে গিয়েছিলেন ডিজনিল্যান্ড। আর নাদালকে পেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছিল তার ভক্তরা। মাত্র কয়েক মাস আগেও ইনজুরির সাথে লড়াই করে ক্যারিয়ার নিয়েই শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন নাদাল। কিন্তু জন্মই যার হয়েছে শুধু নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য, তিনি তো আর হারতে পারেন না ইনজুরির কাছে। গত কয়েক মাস ধীরে ধীরে নিজের মেধা ও অসাধারণ দক্ষতা দিয়ে নাদাল আবারও ফিরে পেয়েছেন পুরোনো ফর্ম। নাদাল সম্পর্কে কিছু তথ্য রাফায়েল নাদাল পারেরা স্পেনের পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়, যিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিয়ে ৮ নম্বরে অবস্থান করছেন। নাদাল সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত এবং ক্লে কোর্টে অসাধারণ সাফল্যের জন্য অনেকেই তাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ক্লে কোর্ট খেলোয়াড় বলে মনে করেন। আর তাই টেনিস ভক্তদের মাঝে নাদাল ‘কিং অব ক্লে’ বলে পরিচিত। তিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিয়ের ১ নম্বর খেলোয়াড়ের আসনেও ছিলেন। নাদাল ১২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা, ২০০৮ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক এবং রেকর্ড ২১টি টেনিস মাস্টার্স সিরিজ শিরোপা জিতেছেন। এ ছাড়া স্পেনের হয়ে তিনি ৪টি ডেভিস কাপ শিরোপা জয় লাভ করেছেন। ২০১০ সালের ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে তিনি ইতিহাসের সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে এবং ওপেন যুগের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম (চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা) অর্জন করেছেন। তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে (আন্দ্রে আগাসির পর) ক্যারিয়ার গোল্ডেন স্ল্যাম (চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং অলিম্পিক স্বর্ণ পদক) জিততে সক্ষম হয়েছেন। ৮টি ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জিতে তিনি ২০১২ সালে বিয়র্ন বোর্গের রেকর্ড ভেঙে দেন। নাদাল হলেন ওপেন যুগের একমাত্র টেনিস খেলোয়াড় যিনি একই বছরে ফ্রেঞ্চ ওপেন, কুইন্স চ্যাম্পিয়নশিপ ও উইম্বলডন জিততে সক্ষম হয়েছেন। জুন ২০১০ থেকে তিনি বিশ্বের ১ নম্বর খেলোয়াড়। এর আগে তিনি আগস্ট ১৮, ২০০৮ থেকে ৫ জুলাই, ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে ছিলেন। ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় জুড়েই নাদাল রজার ফেদেরারের সাথে দ্বৈরথে অবতীর্ণ থেকেছেন যাকে অনেক সমালোচক টেনিস ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দ্বৈরথ বলে মনে করেন। তারা হলেন একমাত্র খেলোয়াড় যারা ৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে নাদাল ৬টি ফাইনালে বিজয়ী হয়েছেন। নাদাল বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক ১৬০ সপ্তাহ ফেদেরারের পেছনে অবস্থান করেছিলেন। ফেদেরারের বিরুদ্ধে খেলা ২৫টি ম্যাচের মধ্যে নাদাল ১৭টিতে বিজয়ী হয়েছেন। খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম উইম্বল্ডন। জার্মানির হালে উইম্বল্ডনের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্টে অংশ না নিয়ে নাদাল ওই সময়টা ব্যয় করবেন বিশ্রাম নেওয়ার কাজে। তবে এই বিশ্রামই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাদাল নিজেই। গত বছরের মতো অঘটনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। নাদাল বলেন, ‘এটা (উইম্বল্ডন) দিয়েই শুরু করতে হলে, পরে কি হবে সেটা বলা যায় না। আমার ইচ্ছা সেখানে (লন্ডনে) গিয়ে ভালোভাবে অনুশীলন করা এবং প্রথম কয়েক রাউন্ড পার করা। দেখা যাক কী হয়।’