বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশি সুন্দরী

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:৪৮
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করছেন বাংলাদেশি কন্যারা। শুধু তাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন আসরে অংশ নিয়ে এভাবেই কৃতিত্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন তারা। সে গর্বের তালিকায় এবার যোগ হতে যাচ্ছে আরেকটি নাম পারমিতা মিত্র। ‘মিস আমেরিকা’ প্রতিযোগিতার এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ কন্যা। ‘মিস মিসিসিপি’ প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতে পারমিতা এবার পুরো আমেরিকার সুন্দরীদের সাথে লড়াইয়ে স্টেজে উঠবেন। বাংলাদেশি নারী হিসেবে তিনিই প্রথম এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। তাকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন পারমিতা মিত্র বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেন ১৯৯১ সালে। এক বছর পূর্ণ হলেই ১৯৯২ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। ড. অমল মিত্র ও রত্না মিত্রের ছোট মেয়ে তিনি। মিসিসিপির ওক হাইস্কুলে মহাকাশ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন ২০০৯ সালে। যুক্তরাজ্যের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে বসবাসসূত্রে পারমিতা এ বছর ‘মিস মিসিসিপি’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখানে বিজয়ী মুকুট জিতে ‘মিস আমেরিকা’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার দ্ব্বার খুলে নেন ২১ বছর বয়সী এ সুন্দরী। পারমিতার প্রধান প্রেরণা তার পরিবার। পারমিতা বলেন, ‘এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনেকদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমার মূল প্রেরণা হচ্ছে আমার পুরো পরিবার। শুরু থেকেই তারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন।’ পাঁচটি ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী পারমিতা। ২০০৯ সালে ‘মিস মিসিসিপি টিন’ হিসেবেও মুকুট জিতেছেন। এ ছাড়াও তৈলচিত্র ও ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে বেশ কয়েকবার পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। মিউজিশিয়ান হিসেবেও তিনি পরিচিত। বাজিয়েছেন পিয়ানো, ক্লারিয়েন্ট ও ড্রাম। মিসিসিপিতে মিউজিক ক্লাবের জাতীয় পর্যায়ের উত্সবে পারমিতা সর্বোচ্চ রেটিং সমৃদ্ধ পিয়ানোবাদক হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। নাসা’র বেশকিছু স্নাতক পর্যায়ের জাতীয় প্রকল্পেও কাজ করেছেন বাংলাদেশি এ কন্যা। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে মিস আমেরিকা প্রতিযোগিতায় মিস মিসিসিপি পারমিতা মিত্র সামনের কাতারেই ছিলেন। ওক গ্রোভ হাইস্কুলের ২০০৯ সালের গ্র্যাজুয়েট পারমিতা মিত্র প্রতিযোগিতার নানা পর্বে অংশ নেবেন। গতকাল অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে এনবিসি টেলিভিশন। পারমিতা মিত্র প্রথম বাংলাদেশি অভিবাসী যিনি মিস আমেরিকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হাটিসবার্গে তার বেড়ে ওঠা। ২১ বছর বয়সী পারমিতার উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। তার বাবা প্রফেসর অমল মিত্র ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মিসিসিপির এপিডেমিওলজি ও বায়োস্ট্যাটিসটিক্স বিভাগের অধ্যাপক এবং কমিউনিটি হেলথ সায়েন্সের ফুলব্রাইট স্কলার। ২০১২ সালের নভেম্বরে মিস মিসিসিপি হওয়ার পর এক সাক্ষাত্কারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যদি আপনাকে এক কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া হয় আপনি তা দিয়ে কী করবেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে আমার পরিবারের জন্য একটি নতুন বাড়ি কিনব।’ বাংলাদেশের মাটির টান ভোলার নয় তা তার এই কথাটি দিয়েই বোঝা যায়।