সফল হয়ে ওঠার পেছনে একটি গল্প থাকে, আপনার ক্ষেত্রে সেটি কী?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি বলেন, তবে আমি বলব, আমি সফল। কারণ আমার শিক্ষাজীবনে সেশন জট ছিল না। সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরির পেছনে ঘুরতে ঘুরতে হতাশ হতে হয়নি। এমনকি শিক্ষাব্যয় নিয়েও আমার অসন্তোষ নেই। কেননা আমি স্বল্পতম সময়ে আন্তর্জাতিক কারিকুলামের শিক্ষা গ্রহণ করেছি এবং অর্জিত সার্টিফিকেটটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এ কারণেই জার্মানিতে চাকরি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে আমার গল্পটি চমকপ্রদ নয়। তবে আমি বলব, এটি সঠিক সিদ্ধান্তের গল্প। উচ্চমাধ্যমিকের পর অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো দ্বিধায় ছিলাম উচ্চশিক্ষার বিষয় নির্বাচন নিয়ে। সে সময় হঠাত্ চোখে পড়ল এদেশ থেকেই ক্যাটেকে বিমান প্রকৌশল বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের বিজ্ঞাপন। এর পর একটু যাচাই করার জন্য সময় নিলাম। ০১৯২৬৯৬৩৬৫৫ এই নম্বরে কথা বলে ক্যাটেকের কাছ থেকে ভর্তি ও কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। যেহেতু এডেক্সেলের আন্ডারে পড়ার সুযোগ ছিল তাই এর মান এবং কর্মক্ষেত্র নিয়ে সংশয় ছিল না। এখন বুঝি আমার সে সিদ্ধান্তটা ছিল সঠিক ও সময়োপযোগী। যা আজ আমাকে জার্মানিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
অনেকের শিক্ষার লক্ষ্য থাকে বিদেশ এবং উচ্চ আয়ের কর্মক্ষেত্র। আপনিও কি সে চিন্তা করেছিলেন?
দেখুন শিক্ষা, পেশা ও কর্মক্ষেত্র বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে জড়িত। আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যা হয়, এক বিষয়ে পড়ে অন্য বিষয়ে চাকরি করা। এটা একটা দুঃখজনক বিষয় বলে আমি করি। আর কর্মক্ষেত্রটি কোথায় হবে সেটা নির্ভর করে ইচ্ছা এবং উদ্যোগের উপর। এখন বিশ্বায়নের যুগ। এই যুগে পুরো বিশ্বই এক গ্রাম। আর সব দেশেই কমবেশি সব কর্মক্ষেত্রের সুযোগ আছে। তবে ক্যারিয়ারে সুযোগ-সুবিধার তারতম্য, জীবনযাত্রার মান, সিকিউরিটি প্রভৃতির পার্থক্যের কারণেই সবাই উন্নত বিশ্বকে টার্গেট করে। আমারও সেদিক দিয়ে টার্গেট ছিল পড়ালেখা এখানে করলেও যেন উন্নত বিশ্বে কর্মক্ষেত্রটি হয়। আমার সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। জার্মানিতে এসে আমার স্যালারি শুরুতেই তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। বাংলাদেশের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে যা আমার জন্য আশাতীত। এই মানের একটি চাকরি পাওয়ার জন্য এ দেশে এসে পড়ালেখা করতে যে খরচ, সে ধকল সামলানো আমার পক্ষে ছিল অসম্ভব।
এই পেশা এবং প্রবাস জীবন কেমন লাগছে?
আমি বাংলাদেশি এটা আমার প্রথম ও শেষ পরিচয়। যেকোনো বাংলাদেশি কোনো ভালো কিছু করতে পারলে আমি গর্ববোধ করি। উড়োজাহাজের প্রকৌশল বিষয় নিয়েই আমার বর্তমান কাজ। এ কাজে আমি খুব আনন্দ পাই। একটি বিমান কেন ওড়ে, কীভাবে ওড়ে আর কীভাবে সেটা অ্যাসেম্বেল করতে হয় তা নিয়েই আমার কাজ। এটা একটা অসাধারণ বিষয়। দেশের জন্য মন খারাপ হলেও দেশের দিকে তাকিয়ে বিদেশে কাজ করছি। স্বপ্ন দেখি এমন কিছু করব যা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
