নতুন প্রজন্মই দেবে সুনেতৃত্ব

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:৫০
আজকের প্রজন্মই আগামী দিনে দেশের হাল ধরবে। তাদের সত্ ও যোগ্য নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে। তাই বিশ্বায়নের এই যুগে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে। তবেই তারা বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবে বিশ্ব দরবারে। এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও তরুণ প্রজন্ম দ্বারা সমৃদ্ধ। এ সময়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়। রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে ভোলার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পক্ষে আমি নই, আবার নষ্ট ধারার রাজনৈতিক চর্চা থেকে নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই মুক্ত রাখতে হবে। আত্মপ্রত্যয়ী মেধাবী ও জ্ঞানে বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ যে প্রজন্ম আমাদের সামনে আসছে তাদেরকে অবশ্যই দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। সে ক্ষেত্রে রাজনীতির বিকল্প নেই।’ রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের ইতিবাচক ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই নতুন প্রজন্মের যারা রাজনীতিতে এসেছেন তাদের অধিকাংশই যোগ্যতা এবং দক্ষতার সাথে দলে ভূমিকা রাখছেন।’ তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে আগে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আর এই শিক্ষাই তাকে সৃজনশীল তথা গঠনমূলক রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং রাজনীতিতে আসবে গুণগত পরিবর্তন। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার ব্যক্তিগত তথা পারিবারিক ও রাজনৈতিক আদর্শ আপনার সন্তান অনুকরণ তথা অনুসরণ করবে, পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করবে, এটাই শিক্ষা।’ তাই নতুন প্রজন্মকে সেভাবেই তৈরি করতে হবে বলে তিনি জানালেন। তার ভাষ্যে, ‘আমার এলাকার সবাই জানেন একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে আমি বড় হয়েছি। আমার বড়ভাই মরহুম মোশারেফ হোসেন শাজাহানও একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেছেন। দল-মতের উর্ধ্বে তিনি ভোলার গণমানুষের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন। আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি।’ এ জাতীয় রাজনীতি সর্ম্পকে নতুন প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলাসহ তাদের মনে রাজনীতি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে এবং রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে সে সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে। তার ভাষ্যে, ‘লেজুর বৃত্তি নয়, কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা নেতা হতে হলে অবশ্যই সেই দলের নীতি-আদর্শের সাথে একমত হয়ে দলের নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। এতে দোষের কিছু নেই। রাজনৈতিক দলের তো কোনো দোষ নেই, কেউ যদি দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে দুর্নীতি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয় তার জন্য তো দল দায়ী হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে, রাজনীতিবিদদের হাত ধরেই সেই দেশ অনেক এগিয়েছে। তাই দুই-একজন দুষ্ট ব্যক্তির কলূষিত রাজনৈতিক চরিত্রের কারণে পুরো রাজনীতিকে দোষ দেওয়া যাবে না। হ্যাঁ সেসব নষ্ট-ভ্রষ্টদের সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনোভাবেই নতুন প্রজন্ম ওই সব ব্যক্তিদেরকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ বলে মনে না করেন। এ কথা আমাদেরকে মনে রাখতে হবে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। তাই সবার আগে দেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’