আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:৫৭
স্বপ্ন কি পূরণ হবে চাটমোহরে দিনমজুরের মেয়ে মুর্শিদার। জিপিএ-৫ পেয়েও লেখাপড়া না হওয়ার হতাশায় ভুগছে কয়রার মেধাবী ছাত্রী সিরাজুম মনিরা। নন্দীগ্রামে গোল্ডেন এ প¬াসপ্রাপ্ত মোত্তালেবের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত। টিউশনি করে জিপিএ-৫ পেয়েছে তাড়াইলের খায়রুল। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। কয়রা (খুলনা)\ বাবার দিনমজুরের টাকায় ঠিকমত সংসার চলে না। তার ওপর মনিরার লেখাপড়ার খরচ যোগাবে কি করে। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া মনিরা বড়বাড়ী গ্রামের দিনমজুর আকবর আলী সরদারের মেয়ে। মনিরার মা সাজেদা বেগম জানান, তিন মেয়ের মধ্যে মনিরা মেঝ। অভাবের কারণে তাকে ঠিকমত বইখাতাসহ অন্যান্য চাহিদাও পূরণ করতে পারিনি। তারপরও সে ভাল ফল করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার প্রতি সুনজর রাখার কারণে তার এই সাফল্য। মনিরার পিতা জানান, ভিটে মাটি বিক্রি করে হলেও মনিরাকে শিক্ষিত করতে চাই। তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আবেদনও জানান। চাটমোহর (পাবনা)\ চাটমোহরে দিনমজুরের মেয়ে মুর্শিদা খাতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার উচ্চশিক্ষা লাভের আশা পূরণ হবে নাকি স্বপ্নের মৃত্যু হবে এ নিয়ে শংকিত সে। মুর্শিদা উপজেলার কাটাখালী কান্দিপাড়া গ্রামের দিনমজুর মজিবর রহমান ও ছবুরা খাতুনের বড় মেয়ে। অভাবকে জয় করে জিপিএ-৫ পেয়ে দিনমজুর বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে মুর্শিদা। সে কাটাখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অদম্য মেধাবী মুর্শিদা স্বপ্ন দেখছে ব্যারিস্টার হবার। কিন্তু অভাবের কারণে স্বপ্ন ভঙ্গের শংকায় মুর্শিদা। তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ)\ তাড়াইল উপজেলার পশ্চিম জাওয়ার গ্রামের দিনমজুর বাবার পুত্র মো. খায়রুল ইসলাম। সে টিউশনি করে জাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। পশ্চিম জাওয়ার গ্রামে পিতা আবদুল গনি ও মাতা মোছাঃ জরিনা বেগমকে নিয়ে টিনশেড ঘরটিতে খায়রুলের বসবাস। ভিটেমাটি ছাড়া তাদের কোনো জমিজমা নেই। যে কারণে পড়ালেখার খরচ যোগাতেও তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এ ব্যাপারে কথা হলে খায়রুল ইসলাম জানায়, সে ছোটবেলা থেকে তার চাচার বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করে স্কুল জীবন শেষ করেছে। ভবিষ্যতে সে একজন নির্ভীক সাংবাদিক হতে চায়।