চার সিটিতে নির্বাচনের পর গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। এতে জনগণ, গণতন্ত্র ও সরকারের জয় হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনও অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই ক্ষমতায় আসবে। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। জনগণের রায় আমরা মাথা পেতে নেবো।
বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আবারও নাকচ করে দিয়ে সংসদ নেতা বলেছেন, এদেশে আর কোন অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজন নাই। ‘আর কোন অসাংবিধানিক কাউকে (সরকার) আনার চেষ্টা করবেন না। তাতে কারো লাভ হবে না, নির্বাচনই হবে না।’ চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রমাণ করেছে নির্বাচিত সরকারের অধীনেও এদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারটি সিটি নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ যাদের ভোট দিয়েছে, তারাই বিজয়ী হয়েছেন। তবে এ নির্বাচন দলীয় নির্বাচন না হলেও দলীয় হয়ে গেছে। আর সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না- তারা সবাই এক হয়েছে। আর এরা প্রচুর টাকা-পয়সা ছড়িয়েছে। এদের টাকা-পয়সারও অভাব নেই। এতদিন লুটপাট ও দুর্নীতি করে টাকা-পয়সা কামিয়েছে, সেটাই তারা বিলিয়েছে।
গতকাল সংসদের বাজেট অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাতেই চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে। একটি দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকলেও যে এ ধরনের নির্বাচন সম্ভব, সেটাই প্রমাণ হয়েছে। চার সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের অভিনন্দনও জানান তিনি।
এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে বিরোধী দলের সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পরে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ব্যারিস্টার মওদুদকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ওনার কোনো পদ নেই, উনি বিরোধী দলীয় উপনেতাও নন। তিনি অনেক কথাই বললেন। কিন্তু একটি কথা বললেন না যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলেই সিটি নির্বাচনগুলো এমন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে। জনগণের এই গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতেই তো আমরা দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছি।’
তিনি আরো বলেন, দেশে আবারও অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকার এলে ওনারা কোথায় ভেসে যাবেন, ডিগবাজি খাবেন- তার ঠিক নেই। অবশ্য ডিগবাজি খাওয়া যাদের অভ্যাস, তারা হয়তো কোনো দলে চলে যাবেন। কিন্তু বাকিদের কী হবে, সেটা চিন্তার বিষয়।
বিরোধী দলীয় নেতাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন মামলা মোকাবেলা করতেও তাদের ভয়। মন যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে মামলা মোকাবেলায় ভয় পান কেন! যেহেতু অপরাধী মন, সেই কারণেই যেদিন যেদিন মামলার তারিখ থাকে সেদিন সেদিনই নানা অজুহাতে আদালতে হাজির হওয়া থেকে বিরত থাকেন।
তিনি বলেন, আজকেও মামলার তারিখ ছিল। কিন্তু সংসদে কাজ আছে বলে ওনাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) আদালতে হাজির হননি। কিন্তু তিনি সংসদেও তো আসেননি। এভাবে আদালতেও তারা মিথ্যা কথা বলছেন।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, একজন রিকসা চালক বলেছেন, তার পরিবারের ১০ জন ভোটারের জন্য তিনি ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন, যা দিয়ে তিনি একটি রিকসা কিনতে পারবেন। এতে একদিকে ভালোই হয়েছে। তাদের লুটপাটের টাকা গরিব মানুষ পাচ্ছে। ভোট কারচুপি ও ভোট কেড়ে নেয়ার সুযোগ থাকলে তো এটা হতো না।
পঁচাত্তরের পর নির্বাচনগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন নির্বাচন মানেই ছিল, ‘১০টি হোন্ডা, ২০টি গুন্ডা আর নির্বাচন ঠান্ডা’। মানুষ ভোট দিতে পারতো না। এ প্রসঙ্গে গত জোট সরকারের সময় অনুষ্ঠিত মাগুরা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন নির্বাচনের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচনী মেকানিজম এরা ভালোই জানে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে ভোট কারচুপির এই সংস্কৃতিই চলে এসেছে। ১৯৮১ সালে আমি দেশে ফিরে এসে দেখেছি নির্বাচন মানেই হচ্ছে প্রহসন। এরপর আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম ও চেষ্টা করতে করতে জনগণের অবাধে ভোট দেয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছি।
