ইস্তাম্বুলের গেজি পার্ক থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উত্খাতের ঘটনাকে কড়া ভাষায় সমর্থন জানিয়েছেন তুর্কী প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইস্তাম্বুলে এক জনসভায় হাজার-হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে এরদোয়ান বলেন, ঐ বিক্ষোভকারীরা সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল এবং তাদের থামানোটা তার দায়িত্ব ছিল।—খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আল জাজিরার।
তিনি যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ইস্তাম্বুলের অন্যান্য এলাকা এবং রাজধানী আঙ্কারা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং জল-কামান ব্যবহার করছিল। পুলিশী সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে তুরস্কের দুটি প্রধান শ্রমিক সংগঠন সোমবার দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন তখনও শহরের বিভিন্ন অংশে চলছে বিক্ষোভ। এদিকে জনসভায় দেয়া ভাষণে এরদোয়ান তার বিরুদ্ধে একনায়কের মতো আচরণের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন এবং তার ভাষায় যারা তুরস্কের রাস্তায় আতংক ছড়িয়েছে তাদের এক এক করে চিহ্নিত করার শপথ তিনি নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলন সংখ্যাগুরুদের ওপর সংখ্যালঘিষ্ঠদের শাসন কায়েমের একটি প্রচেষ্টা, তিনি কোনভাবেই তা বরদাস্ত করবেন না। ইস্তাম্বুল থেকে বিবিসির ক্রিস মরিস জানান, শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও অচল হয়ে আছে। পুলিশ গেজি পার্ক ও থাকসিম স্কোয়ারে যেতে সকল রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আশেপাশের এলাকাগুলোতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গা লেগেই আছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন পার্টির সমাবেশকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ইস্তাম্বুলে মোতায়েন হয়েছে বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ। দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার দাঙ্গা পুলিশ আতাতুর্ক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। সেখান থেকে তারা বাসে করে শহরটিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের গণমাধ্যম। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ৩৫০ জন পুলিশও ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রস্থলে মোতায়েন হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের দোগান বার্তা সংস্থা।
ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কয়ারের গেজি পার্কের গাছ কেটে সেখানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল সরকার। সরকারের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ২৮ মে পার্কটিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে প্রতিবাদকারীরা। কিন্তু সরকার তাদের দাবি অগ্রাহ্য করলে প্রতিবাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়। চিকিত্সাকর্মীদের হিসাবমতে, বিক্ষোভ-সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছে এবং নিহত হয়েছে অন্তত ৪ জন।
