শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবশ্যই পূর্বশর্ত
অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রবৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধকতাহীন করতে হলে অবশ্যই আমাদের দেশে চলমান সংঘাতপূর্ণ রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। হরতালকে চিরবিদায় জানাতে হবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অস্থিতিশীলতা রয়েছে। হরতাল অধিকতর বিনিয়োগের জন্য অনুকূল নয়। শুধু তাই নয় দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনাও এতে ব্যাহত হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্যতম শর্ত। যে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই সে রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভবপর নয়। বাংলাদেশে হরতাল বিদ্যমান থাকলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পদক্ষেপ নিলে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভবপর হবে না। বাংলাদেশকে উন্নয়ন করতে হলে দ্রুত বহুমুখী রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়ন করতে পারলে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তাই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর কিভাবে করা যায় তার উপায় বের করা এবং তা মেনে নেয়া সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।
মোছা. নুরানী আক্তার নিপা
ভাষা বিভাগ, ১ম বর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।
===
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই হতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি
বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মত বাংলাদেশও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের উপরেই নির্ভর করে দেশের শাসনকার্য কার উপর বর্তাবে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ তাদের বড় বড় আশা, বড় চাকরি, দামি গাড়ি, বাড়ি, অগাদ টাকা পয়সার জন্য কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করেন না। তারা শুধু দু’বেলা দু’মুঠো ভাত, মানসম্মত বাসস্থান, শিক্ষা, বেকারত্ব হ্রাসে চাকরি, ভালো চিকিত্সা সেবার জন্য প্রত্যাশিত সরকার নির্বাচিত করেন। কিন্তু নির্বাচিত সরকার সাধারণ জনগণের এই আশাটুকু পূরণে ব্যর্থ হন। ক্ষমতায় গেলে তারা জনগণের কথা ভুলে যায়, ব্রতী হয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টায়। বর্তমান সরকার এর ব্যতিক্রম নয়। অপরদিকে বিরোধী দলের অবরোধ হরতাল ডেকে গাড়ি ভাংচুর, দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, রেললাইন বিচ্ছিন্ন, পরীক্ষার্থীদের হয়রানির মত ঘটনা বারংবার ঘটাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করলে এর ক্ষতির কূল-কিনারা পাওয়া যায় না। একদিনের হরতালে দেশের আমজনতার দৈনন্দিন আয় কমে, ব্যবসায়-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটে, তৈরি পোশাক শিল্পতে কোটি কোটি টাকার উত্পাদন ব্যাহত হয়। লক্ষ লক্ষ টাকার জিনিসের ক্ষতি, আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত, বৈদেশিক বিনিয়োগকারিদের বিনিয়োগে অনিচ্ছা, মুদ্রাস্ফীতির মত অনেক ঘটনা ঘটে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের অর্থনীতি দিনদিন মৃত্যুকূপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উঠে আসতে হলে প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। আর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য চাই স্বদিচ্ছায় নির্দলীয় নিরোপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর ক্ষমতা হস্তান্তর। রাষ্ট্রের শান্তি-শৃংখলা রক্ষার্থে, সামাজিক উন্নয়নে, রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নের সাথে সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
মো. ফেরদৌস সরকার (বাপ্পী)
মার্কেটিং বিভাগ (৩য় বর্ষ)
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
===
ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং গণতন্ত্রের চর্চাই পারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই হতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে হিংসা-ক্রোধ রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জটিল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাছাড়া হরতাল, অবরোধের মত বিশৃঙ্খলাতে দেশের কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের লোকসান হচ্ছে ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া এই হরতাল মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে ঐ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। তাই সরকারি এবং বিরোধী দলকে অনুরোধ করবো দেশের স্বার্থে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের জন্য, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। সুতরাং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে গণতন্ত্রের রক্ষা ও চর্চার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
মো. শেখ রাসেল
ডিপ্লোমা ৩য় বর্ষ, মেকানিক্যাল বিভাগ,
পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পাবনা।
---
অস্থিতিশীল রাজনীতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের
অন্তরায়
বাংলাদেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অনেকাংশে দায়ী। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৩ বছর পরও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় আমাদের দেশটি এখনও তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র্যতম রাষ্ট্র। এর অন্যতম কারণ হলো আমাদের দেশের চলমান অস্থিতিশীল ও হিংসাত্মক রাজনীতি। আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একটি সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর গণতান্ত্রিক উপায়ে পরবর্তী সরকার আসে। দেশের অতীত ইতিহাস থেকে দেখা যায় আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করতে পারে না। নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে কুক্ষীগত করে রাখার জন্য ধংসাত্মক শক্তি প্রদর্শন করে থাকে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ আর বেশী দিন বাকী নেই। সরকার আগামী নির্বাচন নিজেদের অধীনে আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সরকার বিরোধী জোটগুলো সরকারের অধীনে নয় বরং পূর্বের ন্যায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে তারা তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে অনেক কঠোর আন্দোলন করেছে এবং সামনে হয়ত তারা আরও ধংসাত্মক আন্দোলনের দিকে যাবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত বিরোধী জোটগুলোর সাথে একটি আন্তরিক সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান করা। বিরোধী জোটগুলোর উচিত জ্বালাও- পোড়াও ও কথায়-কথায় হরতালের রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য সরকারের সাথে আন্তরিকভাবে তাদের সমস্যার সমাধানে আসা অন্যথায় ধংসাত্মক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি যেমন হুমকির মুখে পড়বে তেমনি দেশে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন-এর সৃষ্টি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
ফয়সাল আহমেদ সোহান
ঈশা খাঁ হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
ফয়সাল আহমেদ সোহান
ঈশা খাঁ হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
ফয়সাল আহমেদ সোহান
ঈশা খাঁ হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।ফয়সাল আহমেদ সোহান
ঈশা খাঁ হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
ফয়সাল আহমেদ সোহান
ঈশা খাঁ হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
ফয়সাল আহমেদ সোহান
ঈশা খাঁ হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা এমন এক মোক্ষম হাতিয়ার যার মাধ্যমে দেশকে উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, আবার এই ক্ষমতাই দেশের উন্নয়নের কাল হয়ে দাঁড়ায়। বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন, ‘ক্ষমতা মানুষকে নীতিগ্রস্ত করে কিন্তু চরম ক্ষমতা মানুষকে চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে।
আমরা অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি যে, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণ উপায়ে কেউ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না, যা বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে বিরল। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্বে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয় যেখান থেকে উন্নয়ন নামক শব্দটি হারিয়ে যায়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সকল ক্ষমতার উত্স জনগণ হলেও প্রত্যক্ষভাবে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করেন রাজনীতিবিদগণ, যারা একটি দেশের কর্ণধার হিসাবে বিবেচ্য।
বহির্বিশ্বের দেশগুলোর সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়ন, কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায়, বৈদেশিক বিনিয়োগে উত্সাহ সৃষ্টি করে থাকেন রাজনৈতিক কর্ণধাররা যার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। আর এ স্থিতিশীলতা তখনই বিরাজমান থাকবে , যখন জনস্বার্থ ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে প্রাধান্য পাবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।
মো: সাফায়েত হোসেন
এম বি এ
ট্যুরিজম এন্ড হসিপটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Email:[email protected]
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের পরিপূরক
গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্বের বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দিবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানাবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ তা আমরা বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক ধারায় সরকারি দল ও বিরোধী দল থাকবে পরস্পরের সহযোগী। সরকারি দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে, সরকারের অযৌক্তিক নীতির বিরোধিতা করবে তেমনি সরকার বিরোধী দলের যৌক্তিক দাবি মেনে নিবে এটাই সবার কাম্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় প্রতিবার যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্র করেছে -তেমনি বিরোধী দলও হরতালসহ নানা রকম ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে করেছে বাধাগ্রস্ত। রাজনৈতিক দলগুলো যদি রাজনৈতিক ইস্যু নিজেরা মীমাংসা না করতে পারে তবে বহিঃশক্তিসহ দেশের ভিতর থেকে অগণতান্ত্রিক পন্থায় গণতন্ত্রের উপর হস্তক্ষেপ করবে যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে করবে আরো বাধাগ্রস্ত। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অভাব রাজনৈতিক মতৈক্যের। তাই এখনই সময় রাজনৈতিক দলগুলো সুশীল সমাজের সাথে আলোচনা করে যে কোন গ্রহণযোগ্য পন্থায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যা বর্তমানে উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে যেমন দূর করবে তেমনি উন্নয়ন এগিয়ে যাবে বহুদূর- যা আমাদেরকে জাতি হিসাবে করবে গর্বিত।
মো. রুবেল হোসেন
মার্কেটিং বিভাগ, জিয়া হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
