মাসুম বিল্লাহ
রিংটোনের বিরক্তিকর শব্দে ঘুম ভাঙল। চরম বিরক্ত নিয়ে মোবাইলটা হাতে নিতেই দেখলাম রাহাতের আম্মু ফোন করছে! নিশ্চয়ই রাহাত কিছু করছে! রাহাতের সকল দোষ এই মহিলাটা আমার কাছেই বর্ণনা করেন! আমাকে যে কী ভাবেন!
ফোন রিসিভ করতেই, ওপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ পেলাম! দারুণ অবাক হলাম, এই মহিলাকে আমি কখনো কাঁদতে দেখিনি। অসম্ভব ধৈর্যশীল! রাহাতের আব্বু মারা গেলেও উনাকে দেখেছি, কিভাবে উনি সবকিছু সামলে নিয়েছেন।
ওপাশ থেকে শুধুই কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে, রাহাতের আম্মু কিছুই বলছে না! আমি অনেকবার হ্যালো, হ্যালো বলা সত্ত্বেও উনি কান্না করেই যাচ্ছেন!
‘আন্টি, কান্নার কারণটা অন্তত বলবেন তো, নাহলে আমি আপনার সমস্যাটা কিভাবে বুঝব।’ এরকমটা বলতেই আন্টি প্রায় দেড় মিনিট সময় নিয়ে কান্না থামিয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললেন, ‘মাসুম, তুমি এখনি আমাদের বাসায় আসো। রাহাত আত্মহত্যার ট্রাই করছে!
পুরাই আবুল হয়ে গেছি! যে রাহাত ভয়ে কখনো কলেজে মেয়েদের সঙ্গে কথাই বলে না, সেই রাহাত আত্মহত্যা করছে! ফারিয়া নামে একটা মেয়ের ওপর রাহাত অতিমাত্রায় ক্রাশিত। কিন্তু, জাস্ট ওর এই ভয়ের কারণেই ওদের মাঝে এখনো কিছুই হয়নি!
রাহাতের বাসার দিকে যেতে যেতে রাহাতের আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণগুলো খুঁজলাম। আমাদের বাসা থেকে রাহাতদের বাসার দূরত্ব খুব বেশি নয়। পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। এই পাঁচ মিনিটে অনেক খুঁজেও রাহাতের আত্মহত্যার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না!
কলিংবেল বাজাতেই আন্টি গেট খুলে দিলেন। আমার অপেক্ষাতেই ছিলেন সম্ভবত! ভিতরে ঢুকতেই উনি আমার হাত ধরে কান্না শুরু করলেন!
অনেক কষ্টে উনার কান্না থামিয়ে ঘটনা জানার চেষ্টা করলাম! রাহাত নাকি সকাল থেকেই কিছু খায়নি। রাহাতের ছোট বোন সাদিয়া রাহাতকে খাওয়ার জন্য ডাকতে এসে দেখে রাহাত ওর ডায়েরিতে কী যেন লিখতেছে!
ও উঁকি মেরে লেখাটা দেখেও ফেলে!
পৃষ্ঠার উপরে নাকি লেখা ছিল সুইসাইড নোট! আর লেখা ছিল এরকমভাবে বেঁচে থাকার কোনো মানে হয় না! এরচেয়ে মরে যাওয়াই ভালো!
আন্টির কাছে ঘটনা শুনে আমি হাসব নাকি কাঁদব ঠিক বুঝতে পারছি না! আন্টিকে শুধু বললাম, ‘আপনি চিন্তা করবেন না, আমি বিষয়টা দেখতেছি।’
রাহাতের রুমে গেলাম।
বিছানার ওপর মাথা নিচু করে বসে আছে হারামিটা। দেখে মনে হচ্ছে জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক সৈনিক! কেনো যেন আমার খুব হাসি পাচ্ছে! অনেক কষ্টে হাসি আটকে রাখছি!
কাছে গিয়ে কয়েকবার ডাকতেই আমার দিকে তাকাল রাহাত। চোখে পানি টলমল করতেছে!
বললাম, ‘কী হয়েছে? আত্মহত্যা করতে চাস ক্যান?’
খুব জোরে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করল রাহাত!
আমি সাধারণত কান্না করি না। এক ডজন ছ্যাঁকা খেলেও আমি কখনো কাঁদিনি!
কিন্তু, একটু আগে রাহাতকে দেখে প্রচণ্ড হাসি পেলেও এখন রাহাতের কান্না দেখে আমারও কেন যেন খুব কান্না পাচ্ছে!
বাট, এই মুহূর্তে আমার কান্না করা মোটেও ভালো দেখায় না। সবাই আমার ওপরে নির্ভর করে আছে!
রাহাতও আমার মাঝেই সান্ত্বনা খুঁজতে চাচ্ছে। অনেক কষ্টে কান্না আটকে বললাম, ‘কী হয়েছে? খুলে বল আমাকে।’
অনেক কষ্টে কান্না সংবরণ করে রাহাত ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, ‘আমার ক্রাশ আমাকে ভাইয়া ডেকেছে!’
ভায়না, মাগুরা।
