আগাম বর্ষণে ভারতে দুর্যোগ নিহত অর্ধ শতাধিক

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২১:০৫
আগাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভারতের উত্তরখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় ও সেতু ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আটকা পড়েছেন তীর্থ যাত্রীসহ কয়েক হাজার মানুষ। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, দু’দিনের টানা বর্ষণে কেবল উত্তরখণ্ডেই আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো অর্ধ-শতাধিক।-খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় পানির তোড়ে ভেসে গেছেন ডজনখানেক মানুষ। আলমোরায় বাসের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে নিহত হয়েছেন তিনজন। এ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভাসিয়ে নিয়ে গেছে প্রবল ঢল। ভারতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে মাটি সরে যাওয়ায় একটি তিনতলা বাড়ি নাটকীয়ভাবে ধসে পড়ছে। বহু যানবাহন খেলনার মতো ভেসে যাচ্ছে ঢলের মধ্যে। উত্তরখণ্ডের সরকারি কর্মকর্তা পিয়ুস রোটেলা বিবিসিকে জানিয়েছেন, রুদ্রপ্রয়াগ ও কেদারনাথ অঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। রোববার বেশ কয়েকটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েক হাজার পুুণ্যার্থী যাত্রাপথে আটকা পড়েছেন। আটকা পড়া তীর্থ যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে সড়কপথে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে বিমানের মাধ্যমে খাবার ও পানির বোতল ফেলতে শুরু করেছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, উত্তরখণ্ডের পাশের প্রদেশ হিমাচলে প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের। সাংলা উপত্যকায় আটকা পড়েছেন এক হাজারেরও পর্যটক। উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জাব এবং হরিয়ানাতেও ভারী বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। হরিদুয়ারে গঙ্গা এবং হরিয়ানায় যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হিমালয় পাদদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের চার তীর্থস্থান বদ্রিনাথ, কেদার নাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রীতে তীর্থযাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ভারতে সাধারণত জুনের শেষভাগ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত চলে। তবে এবার দুই সপ্তাহ আগেই প্রবল বৃষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছে মৌসুমী বায়ু। রবিবার থেকে বৃষ্টি চলছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এবং মুম্বাইয়েও। দিল্লিতে বিমানবন্দরের একাংশসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। ভারতের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তরখণ্ড, হিমাচলসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে আরো দু’দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে।