৯৬ বছরেও জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২১:৪১
কত ভোট গেল, কত ভোট আইল, কত জনে বয়স্ক ভাতার কতা কইয়া ভোট নিল। ভোট নিয়া কতজনে চেয়ারম্যান-মেম্বার অইল, কিন্তু আমার কপালে বয়স্ক ভাতার কার্ড জুটল না। আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের ৯৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা কুলছুম বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন কুলছুম বেগম। চলার পথে লাঠিই তার একমাত্র ভরসা। ৩ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অভাবের সংসার তার। অভাবের সংসার রেখে স্বামী আব্দুস ছবুর মারা গেছেন অনেক আগেই। মঙ্গলবার ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে ক্লান্ত বিধবা কুলছুম বেগম (৯৬) ছোট ছেলে হেকমতের ঘরে শুয়ে আছেন। তিনি জানান, বড় দুই ছেলে হায়েত আলী ও আয়েত আলীর আলাদা সংসার। তাদের রয়েছে ছেলে-মেয়ে। জমিজমা বলতে কিছুই নেই তাদের। ছনের ঘরে কোনমতে জীবন-যাপন করছেন তারা। ছোট ছেলে হেকমত আলীর ৫ সদস্যের সংসারের বাড়তি বোঝা হয়ে কোন রকম বেঁচে আছেন কুলছুম বেগম। প্রায় মৃত্যু পথযাত্রী বৃদ্ধা কুলছুম বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, আশেপাশে আমার ছেলের চেয়েও কম বয়সের লোকেরা ভাতার টাকা পায় কিন্তু তিনি অনেকের কাছে ঘুরেও বয়স্ক ভাতা পাননি। কুলছুম বেগমের ছোট ছেলে হেকমত আলী জানান, আমার মায়ের বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য কতজনের পেছনে ঘুরলাম কিন্তু কেউ একটা কার্ড করে দিল না। দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, কুলছুম বেগমের বয়স্ক ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ভূইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তার সম্পর্কে জেনে ব্যবস্থা নিব।