ঢাকার রাস্তার সৌর বাতির বেশিরভাগই জ্বলছে না

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২২:৪৮
রাজধানীর একাধিক রাস্তায় সৌর বাতি স্থাপন করা হলেও রাতে সে আলো জমিনে ঠিকমত এসে পড়ে না। স্থাপনের শুরু থেকেই ‘অপ্রতুল আলো’র অভিযোগ আছে। কোন কোনটি একেবারেই জ্বলে না। কোনটি মিট মিট করে জ্বলে। অল্প কিছু আছে যা ঠিকমত জ্বলে। কাকরাইল, আরামবাগ, বাংলামটর, গুলশান, হাতিরঝিল, নাবিস্কো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের রাস্তায় সৌর বাতি লাগানো হয়েছে। এসব রাস্তায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে আগের সোডিয়াম বাতি। ফলে সৌর বাতির আলো না থাকায় অন্ধকার হয়েই থাকছে। উন্নতমানের প্যানেল কেনা হয়নি, যার কারণে আলো ঠিকমত জ্বলে না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বাতি থেকে আলো কম হওয়ার অভিযোগ শুরু থেকেই। এজন্য সরকারি অর্থায়নে বাতিগুলোর আলোর ক্ষমতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। এক বছর আগে কাকরাইল থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে পুরোনো সোডিয়াম বাতি সরিয়ে নিয়ে সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। মাত্র কয়েকমাসের মাথায় মাঝরাতে বাতি নিভে। বর্তমানে সেখানের অনেক বাতিই জ্বলছে না। যেগুলো জ্বলে সেগুলোর আলো রাস্তায় এসে পড়ে না। বরং আশপাশের ভবনগুলোতে জ্বলে থাকা আলোতে রাস্তা কিছুটা আলোকিত হচ্ছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত বসানো ৬১টি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রতিটি পোস্টের ওপরে বসানো সাড়ে ৫ ফুটের এক জোড়া সোলার প্যানেল। মোট ৬১টি পিলারে ১২২টি বাতির এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে দুই কোটি টাকা। কিন্তু সোলার বাতিগুলো মাত্র ৬০ ওয়াটের যা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির জন্য একেবারেই অপ্রতুল। এর আগে একই সড়কে থাকা সোডিয়াম বাতির প্রতিটি ছিল ১৫০ ওয়াট করে। ওই সড়কে ৬০ ওয়াটের পরিবর্তে ৯০ ওয়াটের বাতি ব্যবহার করলে ভালো হতো বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। কিন্তু যে প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে ৯০ ওয়াটের বাতি জ্বলানো সম্ভব নয়। ৯০ ওয়াটের জন্য বড় বিলবোর্ডের মতো প্যানেল লাগে। ওই আকৃতির প্যানেল প্রধান সড়কে ব্যবহার করাও সম্ভব নয়। কিছু স্থানে ৬০ ওয়াটের পরিবর্তে ৯০ ওয়াট আলোর বাতি লাগানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থাপিত এই সৌর বাতিগুলোর আলোর ক্ষমতা বাড়াতে যে অতিরিক্ত খরচ তা সরকারের পক্ষ থেকেই করা হয়েছে। রাস্তা ছাড়াও নগরীর কমিউনিটি সেন্টার, হাসপাতাল, শিশু ও মাতৃসদন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একটি সোলার প্যানেলের গড় আয়ুষ্কাল অন্তত পাঁচ বছর। অথচ কয়েক মাসের মধ্যেই পরিবর্তন করতে হচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে সাত সিটি কর্পোরেশনের রাস্তায় সৌরবাতি লাগানো হবে। তখন ৭টি সিটি করপোরেশনে এক হাজার কিলোমিটার রাস্তা সৌর বিদ্যুতের আওতায় আসবে। এতে প্র্রায় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে। শুধু ঢাকার সব রাস্তার বাতি সৌর বিদ্যুতে হলে নয় মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে। ঢাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর সড়ক বাতির জন্য ডিসিসি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার বিদ্যুত্ বিল বাঁচবে।