বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ৭৬ লাখ :জাতিসংঘ

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৩, ২০:৪২
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০১২ সালে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ৭৬ লাখে দাঁড়ায়। ১৯৯৪ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার ইউএনএইচসিআর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শরণার্থীদের ৫৫ ভাগই আফগানিস্তান, সোমালিয়া, ইরাক, সুদান ও সিরিয়া থেকে এসেছে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের শরণার্থীতে পরিণত হওয়ার নেপথ্যে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে ‘গুরুতর কারণ’ হিসাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমের। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশ্বের মোট শরণার্থীদের ৮১ শতাংশকে আশ্রয় দিচ্ছে যা এক দশক আগের সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান আন্তোনিও গুতের্রেস বলেন, এটি সত্যিই একটি উদ্বেগজনক সংখ্যা। এতে প্রমাণিত হয় ব্যক্তি পর্যায়ের দুর্দশা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এতে তাই প্রতিভাত হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিরোধ দূর করতে ব্যর্থ হচ্ছে, প্রয়োজনীয় সময়ে সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। গুতের্রেস আরো বলেন, ৭৬ লাখ শরণার্থীর এই সংখ্যা বোঝা যায়, প্রতি ৪ দশমিক ১ সেকেন্ডে ১ জন ব্যক্তি বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নিজস্ব মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শরণার্থীদের এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। আফগানিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শরণার্থীর উত্স। ৩২ বছর ধরে এই অবস্থান দেশটি ধরে রেখেছে। দেশটির ৯৫ শতাংশ শরণার্থী ইরান অথবা পাকিস্তানে অবস্থান করছে। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শরণার্থীর সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সোমালিয়া এবং তার ঠিক পরের স্থানেই রয়েছে ইরাক। আর সিরিয়া রয়েছে চতুর্থ স্থানে। প্রতিবেদনে মালি ও ডেমক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর নাগরিকরাও উদ্বেগজনক হারে শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে।