অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরস্পরের পরিপূরক
গণতন্ত্র বর্তমান বিশ্বের বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দিবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানাবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ তা আমরা বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক ধারায় সরকারি দল ও বিরোধী দল থাকবে পরস্পরের সহযোগী। সরকারি দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে, সরকারের অযৌক্তিক নীতির বিরোধিতা করবে তেমনি সরকার বিরোধী দলের যৌক্তিক দাবি মেনে নিবে এটাই সবার কাম্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় প্রতিবার যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্র করেছে -তেমনি বিরোধী দলও হরতালসহ নানা রকম ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে করেছে বাধাগ্রস্ত। রাজনৈতিক দলগুলো যদি রাজনৈতিক ইস্যু নিজেরা মীমাংসা না করতে পারে তবে বহিঃশক্তিসহ দেশের ভিতর থেকে অগণতান্ত্রিক পন্থায় গণতন্ত্রের উপর হস্তক্ষেপ করবে যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে করবে আরো বাধাগ্রস্ত। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অভাব রাজনৈতিক মতৈক্যের। তাই এখনই সময় রাজনৈতিক দলগুলো সুশীল সমাজের সাথে আলোচনা করে যে কোন গ্রহণযোগ্য পন্থায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যা বর্তমানে উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে যেমন দূর করবে তেমনি উন্নয়ন এগিয়ে যাবে বহুদূর- যা আমাদেরকে জাতি হিসাবে করবে গর্বিত।
মো. রুবেল হোসেন
মার্কেটিং বিভাগ, জিয়া হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়
এ দেশের প্রধান যে দুটি রাজনৈতিক দল তারা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে যেকোন মূল্যে ক্ষমতা পেতে মরিয়া। ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কেউই কম পন্থা অবলম্বন করে না। নিজস্ব তহবিল শূন্য করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় তহবিলের পর্যন্ত তারা বারোটা বাজায়। ক্ষমতা পেতেই তারা দ্বিধাহীন চিত্তে পিচ, কংক্রিটের কালো রাজপথকে রূপান্তর করে আসছে। যার সত্যতা লক্ষ্য করা যায় স্বাধীনতা উত্তর হরতাল, অবরোধ নামের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাঝে। এবং এ সকল হরতাল, অবরোধের নামে আওয়ামী, বিএনপি যে কয়টি কর্মসূচি পালন করেছে তার মধ্যে প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিই ছিল ক্ষমতাকেন্দ্রিক। অর্থাত্ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ক্ষমতার বাইরে অন্যকিছু বুঝতে চায় না। দুটি দলই মূলত ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে। জনতা এদের কাছে জিইয়ে রাখা মাছ। কোন দলই ভোটে হেরে গিয়ে হেরে যাওয়াটা স্বাভাবিকভাবে নেয় না। হেরে যাওয়া দল সব সময়ই নির্বাচন অস্বচ্ছ, কারচুপিপূর্ণ হয়েছে বলেই দাবি করে আসছে। তাদের এই দাবি আসলে অসচ্ছতার বা কারচুপির বিরুদ্ধে নয়, এই দাবি মূলত ক্ষমতা না পাওয়ার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরটা শান্তিপূর্ণ হওয়া অত্যাবশ্যক। কেননা তা না হলে জ্বালাও, পোড়াও আন্দোলন বৃদ্ধি পাবে, যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তাছাড়া দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান থাকলে গণতান্ত্রিক সরকারের গলা টিপে ধরতে সামরিক সরকারের পারমাণবিক হাত এগিয়ে আসতে পারে। এমনটি হলে কিন্তু জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন তো দূরে থাক আপনাদের ব্যক্তিগত অর্থ ভাণ্ডারও শূন্য হতে সময় লাগবে না। তাই আর ঘুরিয়ে-পেচিয়ে নয়, সোজাসুজি বলা যায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
পলাশ
আইন বিভাগ, ২য় বর্ষ
গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে হিংস্র মনোভাব ত্যাগ করতে হবে
১৬ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। কিন্তু ভয় হয় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কি সম্ভব? বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে এই সময়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। কেননা সকলে জয়ী হবার আশায় থাকে । ব্যর্থতাকে কেউ মেনে নিতে চায় না। কেউ ব্যর্থ হলে শুরু করে হামলা আর মামলা। এতে একদল অন্যদলের প্রতি হিংস মনোভাব তৈরি হয়। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না। এটা আমাদের দেশের কালচার হয়ে গেছে। এই কালচার পরিবর্তন করে দেশের উন্নয়নের জন্য যদি সকলে কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে তবেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয় তবে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তেমন বেগ পেতে হবে না। তবে এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। যে কোন বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দল সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। শ্রমিকের মজুরি সঠিক সময় পরিশোধ করতে হবে। দেশকে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। অপরাধীকে অপরাধের যোগ্য সাজা প্রধান করতে হবে। কেউ যেন ছিনতাই, লণ্ঠন না করতে পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিদেশিদের সাথে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত ভাল রাখতে হবে। গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে হবে। আর এসব সম্ভব হবে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে।
মো. আব্দুর রহমান সুমন
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
বি.এস.এস, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ
রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমাধান
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি অর্থনীতি। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্যি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্রের প্রকৃত অবস্থা খুব নাজুক। আর এ অবস্থার জন্য যে কারণটি ব্যাপকভাবে দায়ী তা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা। রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। হরতালের কারণে গার্মেন্টস মালিকদের অনেক বিদেশি কোম্পানীর অর্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিয়ত বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এ অবস্থা ক্রমাগত চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিকে লাইফ সাপোর্ট দিয়েও বাঁচানো যাবে না। তাই এ অবস্থার দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন দরকার। অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দলকে রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিহার করে জাতীয় ঐকমত্য পোষণ করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা দূরীকরণের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব।
মো. শাহিনুর রহমান শিমুল
সম্মান ২য় বর্ষ (ইংরেজি বিভাগ)
শেরপুর সরকারি কলেজ, শেরপুর
