নতুন মেয়রকে ঘিরে যত প্রত্যাশা

আপডেট : ২০ জুন ২০১৩, ২১:৫৮
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নগর ভবন থেকে দুর্নীতি দূর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি মশা নিধন জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন আগের প্রকল্প সমাপ্ত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিকে ঘিরে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। এ কারণে মনির জন্য আগামী দিনগুলোও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা কতটা তিনি পূরণ করতে পারবেন তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলাপ-আলোচনা। বিপুল ভোটের ব্যবধানে (প্রায় ৬১ হাজার) বিজয়ী মনিরুজ্জামান মনির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার মধ্যে একটি বড় বিষয় হচ্ছে নগর ভবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন খাতে বিরাজমান ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম। এসবের মধ্যে গাড়ির জ্বালানি, হোল্ডিং ট্যাক্স, বিভিন্ন কাজের টেন্ডার, কনজারভেন্সিসহ বিবিধ খাত উল্লেখযোগ্য। এখানে কর্মরত কয়েকশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি বড় অংশ কেসিসির নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্ত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে কোন কোন সাবেক মেয়রকে হিমসিম খেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নগর ভবনের দুর্নীতির জালে সেই মেয়রদেরও জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, সাবেক মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমানের সময়কালে নগর ভবনে দুর্নীতির ব্যাপকতা ছিল সবচেয়ে বেশি। ওয়ান ইলেভেনের পর বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্বয়ং মেয়র তৈয়েবুর রহমানসহ নগর ভবনের অনেক ক্ষমতাধর কর্মকর্তা-কর্মচারী ধরাশায়ী হয়েছিলেন। সুতরাং দক্ষ ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে নগর ভবনের দুর্নীতি কমিয়ে আনা নবনির্বাচিত মেয়র মনির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুজ্জামান মনির কাছে নগরবাসীর একটি বড় প্রত্যাশা হলো নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। নির্বাচনের আগে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি হলো মহানগরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স অথবা কর বৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের আয়ের একটি বড় খাতই হলো এটি। গত কয়েক বছর ধরে খুলনা মহানগরীতে বাড়ির মালিকরা প্রতিবছর তাদের বাসা-বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে চলেছেন। কোন কোন মালিক বছরে দু’বারও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করছেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন ওইসব বাড়ির মালিকের হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। প্রায় পনের লাখ নগরবাসীর কাছে আরেক বড় সমস্যা— মশা। বছরের পর বছর দিন-রাত নগরবাসীকে মশার অসহনীয় দংশন সহ্য করে আসতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের হরহামেশা অভিযোগ করে আসলেও কোন ফল হয়নি। কাউন্সিলররা ফগার মেশিন (মশার ওষুধ ছিটানোর যন্ত্র) নেই, থাকলেও খারাপ হয়ে আছে কিংবা কেসিসি থেকে বাজেট দেয়া হয় না- এমন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে থাকেন। নগরবাসী আশা করেন নয়া মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের এ সমস্যাটির ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। এছাড়া নগরীর উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে আগামীতে যেসব টেন্ডার হবে সে ক্ষেত্রে মনিরুজ্জামান কতটা প্রভাবমুক্ত থেকে স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারবেন সেটিও দেখার বিষয়। সদ্যবিদায়ী মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের আমলে নেয়া অন্তত ৭শ’ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। তিন থেকে চার বছর মেয়াদী এসব প্রকল্পের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। খুলনার আয়কর আইনজীবী শেখ মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, আমরা নতুন নগর পিতার কাছে অর্থ-সম্পদ চাই না। নাগরিক অধিকার, সুবিধা ও সম্মান-মর্যাদা নিয়ে নগরীতে বসবাস করতে পারলেই খুশি। সেই সাথে জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন সড়কসহ একটি আধুনিক নগরী প্রত্যাশা করেন তিনি। দৌলতপুর মহসিন মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মমতাজ বেগম মাদকের ছোবলমুক্ত একটি নগরী চান আগামীদিনের মেয়রের কাছে। এসব বিষয়ে নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনের আগে নগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতির সবগুলোই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে তিনি তার পরিষদের কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যাবতীয় কাজ করবেন। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মিটিং করে তাদের পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীর এবং নগরবাসীর উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে মনিরুজ্জামান জানান।