গাজীপুর নির্বাচনে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিতে পারে

আপডেট : ২০ জুন ২০১৩, ২২:৫৪
নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হরকাতুল জিহাদ (হুজি), হিজবুত তাহরীর, জেএমবিসহ অনেক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন মাথাচাড়া দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এজন্য নির্বাচনের দিন ওই এলাকার গার্মেন্টস কারখানা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। গাজীপুর সিটি নির্বাচন ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় অপপ্রচার বন্ধ ও অনলাইন-মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপরাধ ঠেকানোর ব্যাপারেও নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বৈঠকে। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেন, সদ্য সমাপ্ত চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চেয়েও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বেশি গুরুত্বের সাথে দেখছে কমিশন। বিস্তৃত এলাকা, ১০ লাখের বেশি ভোটার, অধিকাংশ এলাকাই শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ইসি গাজীপুরকে নিরাপত্তা বলয়ে রাখতে চায়। এরই অংশ হিসাবে বিভিন্ন আতঙ্ক-আশঙ্কা দূর করার জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, ডগ-স্কোয়াড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক প্রতিনিধি বলেন, গাজীপুর এলাকায় এর আগে অনেক জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর, জেএমবির তত্পরতা ছিল, এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এক প্রতিনিধি বলেন, আগের ৪ সিটির নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচন অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে। ফলাফল ঘোষণার সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এখন থেকেই বেআইনী অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু করতে হবে। অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে গাজীপুরকে ডাকাতপ্রবণ এলাকা উল্লেখ করে নির্বাচনী কাজে এই ধরনের লোকদের অংশগ্রহণের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বৈঠকসূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ রাখা নিয়ে দু’ধরনের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা ভোটের দিন কারখানা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিলেও র্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে এর অসুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়। তারা বলেন, কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক ভোটার নয়। এসব শ্রমিক ওইদিন ছুটিতে থাকলে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে তারা অহেতুক ভিড় জমাতে পারে। তবে সিইসি জানান, বিজিএমইএ-র সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠকে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, শক্ত হাতে নিরপেক্ষভাবে আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। কোন ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। যথাযথভাবে আচরণবিধি পালন ও বহিরাগতদের নির্দিষ্ট সময়ের পরে বের হতে বাধ্য করতে হবে। তিনি বলেন, ফেইসবুকে অপপ্রচার বন্ধ ও সাইবার ক্রাইম বন্ধে আচরণবিধিতে স্পষ্ট কিছু না থাকলেও প্রচলিত সাধারণ আইনেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়ে মোনাজাত করা যাবে না। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার সময় সবপক্ষের প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। গত ২২ মে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি এবং ৩ জুলাই কিশোরগঞ্জ-৪ এর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেরেবাংলা নগরস্থ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সিইসি কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো: শাহ নেওয়াজ, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সিইসির প্রেস ব্রিফিং বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু স্থানীয় নির্বাচনে না আনাই ভালো। স্থানীয় নির্বাচনে রাস্তাঘাট সংস্কার, নাগরিক সুবিধা উন্নয়ন প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসলে প্রার্থীরা বেশি উপকৃত হবেন। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন প্রার্থী যাতে পোস্টারে কোন দল বা জোটের সমর্থক শব্দ লিখতে না পারে সে বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরো বলেন, আর একটি ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন খুবই সতর্ক, তা হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আর এজন্য যা প্রয়োজন তা করা হবে। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার প্রসঙ্গ তুলে সিইসি আরো বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের উপ-নির্বাচন সম্পর্কে সিইসি বলেন, হাওর এলাকা এবং বর্ষাকাল হওয়ায় আমরা এ নির্বাচনকে নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড প্রস্তুত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় নৌকা, স্পিডবোট ও লাইফ জ্যাকেট সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। চার সিটির গেজেট শিগগির আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গতকাল কমিশন কার্যালয়ে এ কথা জানান। গত ১৫ জুন ওই চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।