বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জেলা বাজেট প্রণয়নের জন্য সক্ষমতাপূর্ণ অবকাঠামো তৈরি করা দরকার। জেলার চাহিদা অনুয়ায়ী স্থানীয় রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা জেলা বাজেটের কাঠামো নির্মাণ করবেন। কেন্দ্র থেকে জেলার জন্য বরাদ্দ দিলেই তাকে জেলা বাজেট বলা যাবে না। জেলা কাঠামো থেকে প্রণীত বাজেট কেন্দ্রীয় সরকার শুধু সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জিডিআরসি মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র রাজশাহী জেলা কমিটি আয়োজিত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
সুপ্র রাজশাহী জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শাহনাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর নূরল আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ কবির, ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদ, নারী যোগাযোগ কেন্দ্রের সভাপতি জায়তুনা খাতুন ও সুপ্র জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান খান। সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সুপ্র সম্পাদক হাসান মিল্লাত।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বরেন্দ্র উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, সিসিবিভিওর নির্বাহী প্রধান সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, সংকল্প সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এভারিস্ট হেমব্রম, কারিতাস কর্মকর্তা লুচিয়া মার্ডি, বাঁধন প্রতিবন্ধী সমিতির সভাপতি সোহেল রানা, কর্মজীবী নারীর সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার রইস উদ্দিন মৃধা, বাসস-এর সিনিয়র রিপোর্টার ড. আয়নাল হক, টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার মনিরুল হক, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রায় ভৌমিক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক পিয়ার বক্স, শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ প্রমুখ।
বক্তারা কৃষি, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুত্ খাতে ভর্তুকি কমানোর সমালোচনা করে বলেন, বাজেটে বেসরকারি খাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সেবা খাতকে সে তুলনায় কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন খুবই জরুরি। দুর্বৃত্তরা রাজনীতিতে জায়গা করে নিচ্ছে, ব্যবসায়ীরা রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনীতিবিদদের হাতেই রাজনীতিকে ছেড়ে দিতে হবে। রাজনীতিতিতে পেশাদারিত্ব সৃষ্টি করে রাজনৈতিক দলকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবেই দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
