পৃথিবীর বহু দেশের লেখাপড়ার অঙ্গ হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। সঙ্গী হয়েছে ল্যাপটপ। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশেও সেই আধুনিকতার প্রতিযোগিতায় সামিল হওয়ার প্রয়াস রেখেছে ক্যামব্রিয়ান। ক্যামব্রিয়ান পর্যায়ক্রমে তাদের নিম্ন থেকে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর প্রায় সকল শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে ল্যাপটপ ও আইপ্যাড। এবং এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের আগে ডিজিটাল ক্যামব্রিয়ানের নব্য এ জগতে শিক্ষার্থীরা যাতে সহজ-সাবলীলভাবে বিচরণ করতে পারে সে জন্য অনেক গবেষণা ও যাচাই বাছাইয়ের পর প্রথমেই তৈরি করা হয়েছে ডিজিটাল ক্যামব্রিয়ান নামক একটি সাবলীল সফটওয়্যার। যে সফটওয়্যারে থাকছে নিম্ন থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর সকল বোর্ড বইয়ের ডিজিটাল ভার্সন—ডিভিডি তথা সফট্ কপি। অর্থাত্ পকেটে করে ছোট্ট একটি আইপ্যাড বা ই-বুক অথবা একটি ল্যাপটপ নিয়ে স্কুলে এলেই হলো। বিশিষ্ট শিক্ষা উদ্যোক্তা ও ক্যামব্রিয়ান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার নিজ প্রতিষ্ঠানে উন্নত বিশ্বের আদলে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ডিজিটাল শিক্ষা ও এর ব্যাপকতা তুলে ধরার প্রয়াস রেখেছেন। তিনি ডিজিটাল শিক্ষা বলতে শিক্ষার্থীদের হাতে শুধু কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আইপ্যাড বা ই-প্যাড ধরিয়ে দিয়েই শেষ করেননি, এ জন্য প্রথমেই তৈরি করেছেন, পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল ভার্সন ডিভিডি ও তা সাবলীলভাবে রান করার জন্য ক্যামব্রিয়ান নামক একটি সাবলীল সফটওয়্যার। ক্যামব্রিয়ানে ই-প্যাড বা ল্যাপটপে আছে, আনন্দময় শিক্ষার এক পরিপূর্ণ পৃথিবী। যেমন, সব বইয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র ইনডেক্স, যেখানে ক্লিক করে এক সেকেন্ডেই একজন শিক্ষার্থী চলে যেতে পারবে যেকোনো বিষয়ের যেকোনো চ্যাপ্টারে। বইয়ের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া আছে মজার মজার সব ভিডিও ক্লিপস। শিক্ষাকে আনন্দময় করার জন্যই এ উদ্যোগ। এ ছাড়াও বইয়ের নিচের অংশে রয়েছে পৃষ্ঠা নাম্বার লেখার ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা যে পৃষ্ঠায় যেতে চায় শুধু সেই পৃষ্ঠা নাম্বার লিখে দিলেই হলো, মুহূর্তেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে সেই পৃষ্ঠাটি। শিক্ষার্থীরা জুম করে একটি পৃষ্ঠার যেকোনো অংশ বড় করে পড়তে পারবে তার চাহিদামতো। চোখের যেন সমস্যা না হয়, সেটা চিন্তা করে আধুনিকভাবে এই জুমিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা যাবে অনেক ছোট ডিভাইসেও। একইসাথে ক্যামব্রিয়ানের সকল ক্যাম্পাস এখন সম্পূর্ণ রি-ভু জোনভুক্ত এবং এদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে আছে স্মার্টবোর্ড ও প্রজেক্টরসহ সর্বাধুনিক সব শিক্ষা উপকরণ। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিকর কোনো ইন্টারনেট সাইটে ঢুকতে না পারে, তার জন্য রয়েছে যথাযথ ব্যবস্থা। ক্যাম্পাসে প্রায় অর্ধ লক্ষ পুস্তকে সমৃদ্ধ অনলাইন লাইব্রেরির পাশাপাশি আছে, ক্যামব্রিয়ান বুকস এন মোর নামক এক বৃহত্ লাইব্রেরি কাম বুক শপ। এবং তাতে শুধু নোবেলই নয়, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের বিভিন্ন কারিকুলামের দেশি-বিদেশি সকল পাঠ্য বই রয়েছে। ফলে ক্যামব্রিয়ানকে এখন পরিপূর্ণভাবেই একটি ডিজিটাল ক্যাম্পাস বলা চলে। ক্রমোন্নতি তথা ঈর্ষণীয় ফলাফলের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই ক্যামব্রিয়ান। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসির ফলাফলে বিজ্ঞানে একজন ব্যতীত সবাই এবং বাণিজ্যে সবাই পাস করেছে। আর ৪১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ০৫ পেয়েছে ১৫৪ জন। এদের বিগত ফলাফল পরিসংখ্যান হচ্ছে, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বাধিক সাফল্যের ভিত্তিতে মেধা তালিকায় স্থান অর্জন। এসএসসিতেও একই চিত্র। আর মেধাতালিকায় ২০০৮ সালে ২য়, ২০০৯ সালে তৃতীয় এবং ২০১০ সালে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১১তম এবং শতভাগ পাসের ভিত্তিতে ঢাকা বোর্ডে ১ম স্থান অর্জন করে। এদিকে গুণগত মানের শিক্ষা দানের জন্য এই স্কুল ও কলেজ অর্জন করে ২০০১ঃ২০০৮ আন্তর্জাতিক আইএসও সনদসহ জাতীয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পদক। বিশেষ করে আলোকিত মানুষ তৈরির এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন ছয় শতাধিক অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী। আর তারাই হচ্ছেন ক্যামব্রিয়ানের গর্বিত ফলাফল অর্জনের নেপথ্য কারিগর। তাদের আন্তরিক, গঠনমূলক ও সৃজনশীল পাঠদানের ফলে ক্যামব্রিয়ানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে হয় না। এদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আছে, বই, খাতা, কলমসহ সকল শিক্ষা উপকরণ ফ্রি। আছে কিস্তিতে ফি প্রদানের সুবিধা ও এককালীন ফি প্রদানে বিশেষ ডিস্কাউন্টসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল সুবিধা ও আকর্ষণীয় স্কলারশিপের ব্যবস্থা।
