অর্পিত সম্পত্তি এবং আমরা

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২১:৪৯
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, দেশের ৭ বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ক তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে ৪৮৬৭৭.১৭৪৫৬, খ তপসিলে রয়েছে ২৫৩৫৭৭৮২৪৪৩ মোট জমি ২৮৪৯০২.৯৫৭৯৯। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৭১৯.৪২৮৫৬৫, খ তপসিলে ১১৯৮৮২৩৬২৭ মোট জমি ১৩৬৬০১.৭৯১২৬৫। রাজশাহী বিভাগে ২৩৭০২.৮২০২, ৯৮৯৭৮.১৯৮৬৮, মোট জমি ১২২৬৮১.০১৮৯। রংপুর বিভাগে ২০৩৩৬.২৩৯৩১, ৩৯৭০৬৮৭৯৮ মোট জমি ৬০০৪২.১১৯১১। খুলনা বিভাগে ৩৭০০৫.৮৯৩৩, ১২০২২২.০৩৫৬৮ মোট জমি ১৫৭২১১.২৬৫। বরিশাল বিভাগে ১৭৭৮২.৩৭৫৩২, ৫০০৭৮.১৪২৫৫ মোট জমি ৭১৮৬০.৪১৭৮৭। সিলেট বিভাগে ২৮৬৮৯.১২১, ৫৭০৪৬.৭৯৫৫ মোট জমির পরিমাণ ৯১৯,০৩২৪৮৬৬৩৫। সম্পত্তির মায়া বড় মায়া। কখনো তা মা-বাবা-ভাইবোন এমনকি সন্তানের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রদায় তো দূরের কথা। আর যদি বিষয়টি জড়িত হয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাহলে তো কথাই নেই। কষ্টের পয়সায় কেনা সম্পত্তির মালিকানা আর অন্যায়ভাবে দখল করা সম্পত্তির মালিকানায় অনেক ফারাক। দখলদারদের নির্দিষ্ট কোনো দল নেই। সব দলেই তাদের অবস্থান। নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের প্রশ্নে যে কোনো দলের সঙ্গে যে কোনো মতের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করা তাদের জন্য অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। ভূমিসংক্রান্ত মীমাংসার বিষয়টি যেমন জটিল তেমনি স্পর্শকাতর। তাই অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহা করতে হবে। দেশের সকল নাগরিককে বোঝাতে হবে এর ভালোমন্দ দিক। যাতে করে কোনো বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয়। শত্রু সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে অর্পিত সম্পত্তি কী, কেন, কাদের সম্পত্তি, কীভাবে কাদের মধ্যে এসেছে এবং কোন্ পরিস্থিতিতে এসেছে? কারা এ ধরনের কালো আইন করেছিল? আইনটির মানবিক-অমানবিক দিক সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ এবং প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সুযোগ নেবে। এদিকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গত ১৮ মে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের জন্য ৩০০দিন আবেদন করার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিকার প্রার্থী জনগণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি ও ভূমিসংক্রান্ত যাবতীয় দলিল সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের কাছে স্বল্পতম সময়ে যাতে পৌঁছতে পারে তার ব্যবস্থারও দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা আরো বলেছেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ক ও খ তফসিলের গেজেট নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকাশ করতে না পারায় সরকার দু’দফায় গেজেট প্রকাশের সময়সীমা বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালের গেজেট প্রকাশের সময়সীমা ৩৮০ দিন বাড়ানো হলেও প্রতিকারের জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ৫৭ দিন— ৫ মে থেকে ৩০ জুন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত অভিযোগ করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক ও খ তফসিলভুক্ত গেজেট প্রকাশের দীর্ঘকাল পরও তা প্রতিকার প্রার্থী জনগণের কাছে পৌঁছায়নি। পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। সেসঙ্গে চলছে নানাবিধ চক্রান্ত, কর্মকাণ্ড। যাতে নির্ধারিত সময়ে বিচারপ্রার্থী জনগণ ট্রাইব্যুনালে বা কমিটিতে আবেদন করতে না পারে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট ভূমিসংক্রান্ত দপ্তর নানা অছিলায় সারা দেশে প্রয়োজনীয় দলিলাদি সরবরাহে অহেতুক গড়িমসি করছে। অর্পিত সম্পত্তি সম্পর্কিত বিরোধ-মীমাংসা এবং সুষ্ঠু ও সঠিক বণ্টনসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড এক মহাযজ্ঞ। একে সফল করতে হলে সবাইকে কমবেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আসুন আবার আমরা আমাদের অতীত ঐতিহ্যে ফিরে যাই। হিন্দু, মুসলিম বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের বিভেদ ভুলে আবার মানুষ হই। ঢাকা