মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনের উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তার পদ

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২১:৪৯
২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ৬ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-র ৯৩তম সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস স্থাপন ও তার জনবল রাজস্বখাতে স্থানান্তর সংক্রান্ত আলোচ্য সূচিতে ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সম্বলিত জনবল কাঠামো অনুমোদিত হয়। একই বছরের ২২ জুন নিকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নিকার শাখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস স্থাপন ও তার জনবল রাজস্বখাতে স্থানান্তরের বিষয়টি অনুমোদন করে এক আদেশ জারি করে। জারিকৃত আদেশে অনুমোদিত পদগুলো রাজস্বখাতে স্থানান্তরে অর্থ বিভাগ থেকে পদের বেতনস্কেল নির্ধারণসহ প্রচলিত নিয়ম-নীতি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালনে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। তারই আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গেজেটেড অফিসার ও নন গেজেটেড কর্মচারীদের নিয়োগ বিধিমালা-২০০৬ নামে একটি খসড়া নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে। তত্কালীন শিক্ষা সচিব ও মাউশি-র মহাপরিচালক কর্তৃক ২৭-১২-২০০৬ তারিখে স্বাক্ষরিত নিয়োগবিধিতে দেখা যায় যে, জেলা শিক্ষা অফিসার পদের ১০০% উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের মধ্য থেকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদের ৮০% সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের মধ্য থেকে এবং সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদের ৫০% হিসাব রক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রাখা হয়েছে। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ৬ মে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে অম/অবি/বাশা-২/৩-২৫৩১-সা:শি:(৭৬)/২০০৮/১৩৭ নম্বর স্মারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৪টি সমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পের জনবল ২১৭৩ টি পদ রাজস্বখাতে স্থানান্তরে সম্মতি জ্ঞাপন করে। সেখানেও রাজস্বখাতে স্থানান্তরের জন্য সুপারিশকৃত সমাপ্ত প্রকল্পের পদসমূহের স্কেল অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে যাচাই/ভেটিং অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে— এরূপ নির্দেশনা থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪-৬-২০০৯ তারিখে শিম/শা:২২/২-৩২(নিকার)/ ২০০৬/৬০৫ নম্বর স্মারকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জনবলের বেতনস্কেল ভেটিং/যাচাইয়ের জন্য ২০০৬ খ্র্রিস্টাব্দে প্রণীত নিয়োগবিধি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগে প্রেরণ করে। খসড়া নিয়োগবিধিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদের যোগ্যতার সঙ্গে প্রস্তাবিত বেতনস্কেলের অসামঞ্জস্যতা থাকায় এবং সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও হিসাব রক্ষক পদে ন্যূনতম একই যোগ্যতার বিধান থাকায় বেতনস্কেল নির্ধারণে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে মর্মে বেতনস্কেল নির্ধারণের সুবিধার্থে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদের পদমর্যাদা অনুযায়ী যথাযথ যোগ্যতায় প্রণীত শিক্ষা সচিব মহোদয় কর্তৃক স্বাক্ষরিত খসড়া নিয়োগবিধি প্রেরণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ ১-৭-২০০৯ তারিখে অম/অবি(বাস্ত-২) বে:স্কে:নি:(শিক্ষা)-১৩/২০০৯/১১৬ নম্বর স্মারকে শিক্ষা সচিব মহোদয় বরাবরে পত্র প্রেরণ করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাউশিকে পত্র দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ১৮ আগস্ট ২০০৯ তারিখে মাউশি/পরি/বিবিধ/৪০৭/০৮/২১৩১ নম্বর স্মারকে সম্পূর্ণ নতুন করে নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। নতুন করে প্রণীত নিয়োগবিধিতে ২০০৬ সালে প্রণীত নিয়োগবিধির পদোন্নতির কোটা হ্রাসসহ বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে শিম/শাখা:২২/২-৩২(নিকার)/ ২০০৬(অংশ)/ ১০৫৫ নম্বর স্মারকে পুনরায় মাউশিকে “ইতোপূর্বে অর্থ বিভাগে প্রেরিত খসড়া নিয়োগ বিধিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে অর্থ বিভাগ আপত্তি উত্থাপন করেছে, সেহেতু উক্ত খসড়া নিয়োগ বিধির অন্য কোনরূপ পরিবর্তন/পরিমার্জন না করে শুধুমাত্র উল্লেখিত পদের পদ মর্যাদা অনুযায়ী যথাযথ যোগ্যতায় প্রণীত খসড়া নিয়োগ বিধি অর্থ বিভাগে প্রেরণ করাই সমীচীন”— এ অভিপ্রায় ব্যক্ত করে পত্র পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি না থাকা সত্ত্বেও ২০০৬ সালে প্রণীত নিয়োগবিধির পদোন্নতির কোটা হ্রাস করে ১৫-১০-২০০৯ তারিখে মাউশি নতুন একটি খসড়া নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। মাউশি কর্তৃক প্রণীত এ নিয়োগবিধিটি ৫-১১-২০০৯ তারিখে শিম/শাঃ২২/২-৩২ (নিকার)/২০০৬ (অংশ)/১২১১ নম্বর স্মারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগে প্রেরণ করলে বাস্তবায়ন অনুবিভাগ ৩০-১২-২০০৯ তারিখে অম/অবি(বাস্ত-২)বেঃস্কেঃনিঃ(শিক্ষা)-১৩/২০০৯/২৩৮ নম্বর স্মারকে এতদসংক্রান্ত আদেশ জারি করে। যে নিয়োগবিধিটি ২০০৬ সালে প্রণীত হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল; অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতির কোটা হ্রাস করে ২০০৯ সালে কেন নতুনভাবে নিয়োগবিধি প্রণয়ন করা হয়েছিল তা একেবারেই অজানা। দীর্ঘ ৭ বছরে কোনো নিয়োগবিধিই চূড়ান্ত রূপ না পাওয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনের উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ৬১টি ও সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ৩২৮টি সহ মোট ৩৮৯টি শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় মাঠ পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু মনিটরিং ও তত্ত্বাবধান, বিনামূল্যের বই বিতরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উপবৃত্তি কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা, মন্ত্রণালয়, মাউশি, শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক উপজেলায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য থাকায় কখনো জেলা শিক্ষা অফিসার, কখনো পার্শ্ববর্তী উপজেলার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বিভাগীয় কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে; অন্যদিকে তেমনি ২০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে থাকায় তাদের মধ্যে হতাশাও নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এ বিষয়ে আন্তরিক হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগবিধি চূড়ান্ত করে এসব শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব। টাঙ্গাইল